জঙ্গলে আগুন, রাস্তায় হাজারো মানুষের উন্মত্ত আচরণ! আর তাতে আতঙ্কিত হাতির দল দিশাহারা হয়ে পড়ছে এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। যা নিয়ে বন আধিকারিকদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে চিন্তা। এই পরিস্থিতিতে হাতিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় স্থল গড়ে দিল ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর। সাড়ে চার হাজার হেক্টর জায়গা জুড়ে হাতিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করার এক অভাবনীয় পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করল ঝাড়গ্রাম বন দপ্তর। এদিন রবিবার ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের অন্তর্গত জামবনি ব্লকের গিধনি রেঞ্জ অফিসে হাতির এই আবাস ভূমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। ঘুরে দেখেন পুরো পরিকল্পনা।
ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গিধনি রেঞ্জের ঝাড়খণ্ড রাজ্য সীমানা এলাকায় ডুমুরিয়া,বরশোল, আমতলিয়া, চান্দুয়া, বড় রাজগ্রাম, পলাশবনি, কেশিয়া-সহ আরও অন্যান্য এলাকা ধরে সাড়ে চার হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে হাতির নিরাপদ এই আবাসস্থল। বিগত দু'বছর ধরে হাতিদের এই আবাসস্থলের পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য খরচ হয়েছে ২,৩৫,৩১,০৭০ কোটি টাকা। এই এলাকায় হাতির দল যাতে পর্যাপ্ত জল পায় সেই জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৬টি পুকুর। তৈরি করা হয়েছে চারণভূমিও।
হাতিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় স্থল গড়ে দিল ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর। সাড়ে চার হাজার হেক্টর জায়গা জুড়ে হাতিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করার এক অভাবনীয় পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করল ঝাড়গ্রাম বন দপ্তর।
হাতির প্রাকৃতিক খাদ্য সংস্থানের জন্য ১০ হেক্টর চারণভূমি রোপণ হয়েছে। ৯০ হেক্টর এলাকায় হাতি পছন্দ করে বিভিন্ন ফলের গাছ, ফডার জাতীয় গাছ ( ডালপালা,শস্য জাতীয় গাছ) রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৯০ হেক্টর শালগাছের পুনর্জীবন তথা নতুন শাল গাছ লাগানো থেকে শুরু করে পুরাতন গাছ গুলির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাটি ও জল সংরক্ষণের জন্য ২৮০ হেক্টর এলাকায় কনট্যুর ট্রেঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে জমির ঢাল ধরে বৃষ্টির যে জল বয়ে যায় তা আটকানোর জন্য আড়াআড়ি নালা কাটা হয়েছে। এর ফলে জল সংরক্ষণ করা যাবে। সব মিলিয়ে এই জায়গাটি ঘিরে হাতিদের থাকার জন্য একটি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ বান্ধব স্থল গড়ে উঠেছে। যেখানে হাতির দল নিরাপদে থাকবে বলেই মনে করছেন বন আধিকারিকরা।
এভাবেই জঙ্গলের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে পুকুর।
সারা বছর ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া থেকে দল বেঁধে আাসে হাতি। ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। আর খাবারে টান পড়লেই গ্রামে ঢুকে পড়ে, নেমে আসে ফসলের জমিতে। এর ফলে একদিকে যেমন ফসল হানির ঘটনা ঘটে, তেমনই হাতির হানায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে হাতির দলকে বছরের মধ্যে তিন থেকে চার মাস আটকে রাখতেই খাদ্য, জল, নিরাপত্তাযুক্ত এমন একটি জায়গা তৈরি হয়েছে বলে দাবি আধিকারিকদের। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামের তত্বাবধানে গত দু'বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই জায়গা।
এলাকা ঘুরে দেখছেন মন্ত্রী।
হাতির দলকে বছরের মধ্যে তিন থেকে চার মাস আটকে রাখতেই খাদ্য, জল, নিরাপত্তাযুক্ত এমন একটি জায়গা তৈরি হয়েছে বলে দাবি আধিকারিকদের। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামের তত্বাবধানে গত দু'বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই জায়গা।
মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, "আমাদের যদি ঘরে আগুন লাগে তাহলে আমরা কি আতঙ্কিত হব না! জঙ্গলে আগুন লাগানে হচ্ছে, হাজারো মানুষ হাতির পিছনে ছুটছে। এরকম অবস্থায় হাতি কি আতঙ্কিত হবে না! এটা ভাবার সময় এসেছে।'' এরপরেই মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ''হাতিদের থাকার জায়গায় আপনরা যাবেন না। ওদের উত্যক্ত করবেন না। হাতির জন্য যে জায়গা তৈরি হয়েছে আশা করা যাচ্ছে সেখানে তারা থাকবে। সাধারণ মানুষের কাছে একটাই অনুরোধ বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তাতে সবাই ভালো থাকবে। "
