ফের খড়গপুর আইআইটিকে গর্বিত করলেন আরও এক প্রাক্তনী। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও শোনা গেল খড়গপুর আইআইটির ওই প্রাক্তনীর ভূয়ষী প্রশংসা। আর সেই প্রশংসার খবরে খড়গপুর আইআইটিতে খুশির হাওয়া। হায়দরাবাদ ভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা 'স্কাইরুট অ্যারোস্পেস'-র তৈরি করা রকেট 'বিক্রম-১'-র সফল উৎক্ষেপণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর হলেন খড়গপুর আইআইটির প্রাক্তনী পবনকুমার চন্দনা।
তিনি বর্তমানে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এই পবনকুমার চন্দনা ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত খড়গপুর আইআইটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ডুয়েল ডিগ্রি (বিটেক ও এমটেক) নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। খড়গপুর আইআইটি থেকে পাস করার পর তিনি ইসরো-তে বিজ্ঞানী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৮ সালে অন্যদের সঙ্গে 'স্কাইরুট অ্যারোস্পেস' প্রতিষ্ঠা করেন। আর এই সংস্থার তৈরি রকেট বিক্রম-১-র সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইআইটির এই প্রাক্তনীকে ব্যক্তিগতভাবে ফোনালাপের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আর প্রধানমন্ত্রীর সেই অভিনন্দন পেয়ে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পবন। এদিকে, প্রাক্তনীর এই সাফল্যে রীতিমতো আপ্লুত খড়গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, "এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। খড়গপুর আইআইটি আজ আরও একবার গর্বিত হল।” খড়গপুর আইআইটির পড়ুয়ারাও এই সাফল্যে গর্বিত।
মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট। ‘মিশন আগমন’-এর অন্তর্গত ওই রকেটের উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ সফল হতেই তৈরি হল ইতিহাস। লো আর্থ অরবিটে ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম বিক্রম-১। উল্লেখ্য, স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট বিক্রম-১। অত্যাধুনিক লিকুইড ইঞ্জিন ও কঠিন-জ্বালানি বুস্টারের মিশেলে তৈরি এই রকেট ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। বলে রাখা ভালো, এই মিশনে মহাকাশে পাঠানো হবে এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্মও। সেই সঙ্গেই এখানে থাকবে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেট। যে রকেটে ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার কিংবদন্তি মুখ বিক্রম সারাভাই, এপিজে আবদুল কালাম, সিভি রমণ, বিক্রম সারাভাইয়ের মুখ খোদিত রয়েছে।
