এল নিনোর ভ্রূকুটি সত্বেও চলতি জুলাই মাসে জমাটি ইনিংস খেলছে বর্ষা। জুলাইয়ের প্রথম সাত দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৭৯১ মিমি। অন্যদিকে গত দুই দিনে দেশে স্বাভাবিক দৈনিক বর্ষার প্রায় ১৭০-১৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অবস্থায় চাঞ্চল্যকর উপগ্রহচিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, ভারত থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত ১০,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘে ঢেকে গিয়েছে আকাশ। এত বড় মেঘ কীভাবে তৈরি হল? কতটা আশঙ্কার?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত মহাসাগর থেকে আসা বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস এশিয়া জুড়ে বিদ্যমান বর্তমান আবহাওয়ার সংস্পর্শে আসায় মেঘের এক বিশাল বলয় বা ‘মৌসুমি অভিসারী অঞ্চল’ (monsoon convergence zone) গড়ে উঠেছে। এর ফলে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে মেঘ ও বৃষ্টিপাতের এক নিরবচ্ছিন্ন বলয় বা করিডোর সৃষ্টি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আবহাওয়ার এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির কারণেই ইতিমধ্যে ভারতজুড়ে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা আপাতত অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়াবিদরা এই ঘটনাটিকে একটি "বিশাল বর্ষণমুখর দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী গড় মাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, ভারতের মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিশাল অংশে আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা পড়েছে। সেই মেঘপুঞ্জ হিমালয় অঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে চিন ও জাপান পর্যন্ত বিস্তৃত।
এর জেরে বিপুল বৃষ্টিপাত আপাতত অব্যাহত থাকবে। মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য ভারতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। ইতিমধ্যে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর এবং রাজস্থানের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগের দিকে অগ্রসরমান নিম্নচাপের প্রভাবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যার জেরে অসম-সহ বহু রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে আসা ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘে দেখে শঙ্কিত বিজ্ঞানীরা।
