shono
Advertisement
Buxa Forest

ব্যাঘ্রশূন্য বক্সায় ফের শোনা যাবে গর্জন! কেন্দ্রের উদ্যোগে বাঘ আসছে উত্তরবঙ্গে

বক্সায় বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প থমকেছিল। অবশেষে রাজ্যে পালাবদলের পরেই এই প্রকল্প বাস্তব রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।
Published By: Suhrid DasPosted: 03:14 PM May 27, 2026Updated: 03:14 PM May 27, 2026

বক্সায় বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প থমকেছিল। অবশেষে রাজ্যে পালাবদলের পরেই এই প্রকল্প বাস্তব রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। দেশে বাঘ সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সংস্থা এনটিসিএ (ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি)-র গাইডলাইন মেনে এই প্রকল্পের রূপায়ণ করা হবে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ থাকার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশ রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। বক্সা টাইগার রিজার্ভ অথরিটি ও রাজ্য বনদপ্তরের একাধিক কর্তা এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এখনই বিষয়টি নিয়ে বনকর্তাদের কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।

Advertisement

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বনাঞ্চল ও বন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা আরও বেশি কড়াকড়ির মধ্যে পড়বেন কিনা— সেই বিষয়ে নানান গুঞ্জন ছড়িয়েছে। পর্যটনের হালহকিকত কী হবে, সেই বিষয়েও নানা মতবাদ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মানব বক্সি বলেন, “টাইগার ট্যুরিজম বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই একটি ট্যুরিজম ঘিরেই আমাদের এলাকা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু বাঘের নামে অযথা কোনও কড়াকড়ি করলে তাতে বনাঞ্চলের বাসিন্দা ও পর্যটন— দুইয়েরই ক্ষতি হয়। আমরা আগে দেখে নিতে চাইছি বন দপ্তর আসলে কী করতে চায়।” 

এই প্রকল্পে বাইরের বনাঞ্চল থেকে দুই বাঘিনী ও এক বাঘ এনে প্রাথমিকভাবে একটি এনক্লোজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। সবগুলোর গলায় রেডিও কলার পরানো থাকবে। মাত্র কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পর রেডিও কলার পরা সেই বাঘ-বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে খোলা বনাঞ্চলে।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা অরণ্য দেশের ১৫তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকার মর্যাদা পায়। তখন এই বনাঞ্চলে ২০টির বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে মোট ৭৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বক্সা বাঘ বন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই বনাঞ্চল বাঘশূন্য হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এখানে একটিও বাঘ নেই। তবে শেষ কয়েক বছর ভুটান থেকে এই বনাঞ্চলে বাঘের আনাগোনা ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই অবস্থায় এখানে বাঘের স্থায়ী বসবাস গড়ে পুরনো গৌরব ফেরাতে চাইছে বন দপ্তর। আর সেই কারণেই বাইরের রাজ্য থেকে এই বনাঞ্চলে বাঘ এনে তাদের বংশবৃদ্ধির প্রকল্প (টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন) হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পে বাইরের বনাঞ্চল থেকে দুই বাঘিনী ও এক বাঘ এনে প্রাথমিকভাবে একটি এনক্লোজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। সবগুলোর গলায় রেডিও কলার পরানো থাকবে। মাত্র কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পর রেডিও কলার পরা সেই বাঘ-বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে খোলা বনাঞ্চলে। রেডিও কলারের মাধ্যমে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে বন দপ্তর। ইতিমধ্যেই এনক্লোজার তৈরির কাজ শেষ করেছে বন দপ্তর। সেখানে বাঘের জন্য হরিণ ছাড়ার কাজও শেষ হয়েছে। 

বক্সা টাইগার রিজার্ভের হাতে আসা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি।

এবার শুধু বাঘ এনে ছাড়লেই বক্সায় টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন প্রকল্প চালু হয়ে যাবে। জানা গিয়েছে, এই বনাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পরিবেশ রয়েছে— এমন অসম বা বিহারের বনাঞ্চল থেকে বাঘ আনার কথা প্রাথমিকভাবে ভেবেছে বন দপ্তর। বাইরের বাঘ এনে এখানে ছাড়লে সেটি স্থায়ীভাবে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করবে বলে আশা করছে বনদপ্তর। আর তাতেই ধীরে ধীরে বাঘ থাকার পুরনো গৌরব বক্সায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদী তারা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement