সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অর্ডিনারি ও একস্ট্রাঅর্ডিনারির মধ্যে ফারাক গড়ে দেয় ওই ছোট্ট ‘একস্ট্রা’ অংশটুকুই। এরকমই এক কোটেশন দেখেছিলেন ব্যাঙ্কের টাইপিস্ট চন্দ্রকান্ত ভিড়ে। ছাপোষা জীবন। কিন্তু তার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল দুরন্ত সম্ভাবনার বীজ। একদিন নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করেন। তারপর টাইপরাইটারে শচীন তেণ্ডুলকরের মূর্তি গড়ে তাক লাগিয়ে দেন গোটা বিশ্বকে।
[ আদাতেই শরীরে ঢুকছে অ্যাসিড, কেনা কতটা বিপজ্জনক? ]
আধুনিক স্মার্ট ফোন শাসিত জীবনে টাইপরাইটারই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছে। এখনও কোথাও কোথাও তার দেখা মেলে বটে, তবে কদর নেই। সেই টাইপরাইটারই যে শিল্পসৃষ্টির এমন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে কে জানত! যে টাইপরাইটার প্রায় উঠেই গিয়েছে, তার চাবিতে হাত রেখেই একের পর এক ছবি এঁকে চলেছেন চন্দ্রকান্ত। মহাপুরুষদের ছবি ফুটে উঠছে তাঁর হাতের গুণে। সেরকম ছবি আঁকতে আঁকতেই একদিন শচীনের ছবি আঁকার ভাবনা আসে তাঁর। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ‘@’, ‘-‘ , ‘x’-ই তাঁর প্রধান উপকরণ। শচীনের মুখাবয়ব তো ফুটিয়ে তুললেন। কিন্তু ওই কোঁকড়ানো চুল কীভাবে ফুটে উঠবে? বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন চন্দ্রকান্ত। তারপর হাতে উঠে আসে ‘@’। এই দিয়েই শচীনের প্রতিকৃতি সম্পূর্ণ হয়। নিজের এই কাজে বড় তৃপ্তি পান শিল্পী। তারপর একদিন মাস্টার ব্লাস্টারকে সে কাজ দেখানোর সুযোগও পান। সে সময় ব্যাডপ্যাচ চলছিল শচীনের। দেখে মুগ্ধ হন লিটল মাস্টার। ছবিতে অটোগ্রাফ দেন শচীন। চন্দ্রকান্ত সেদিন বলেছিলেন, এ ছবি শচীনের জীবনে নতুন কিছু আনবে। আর তারপরই ব্যাড প্যাচ কেটে রানে ফিরেছিলেন তেণ্ডুলকর। ফলে এ ছবি চন্দ্রকান্তের কাছে অনন্য সম্পদ।
[ থিম নয়, ক্যানসার আক্রান্ত কিশোরের গড়া প্রতিমাতেই প্রাণপ্রতিষ্ঠা ৬৬ পল্লিতে ]
তাঁর এই শিল্প ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রখ্যাত কার্টুনিস্টরা তাঁর কাজকে পাদপ্রদীপের আলোয় এনেছেন। সত্যিই তো এরকমভাবেও যে শিল্প সৃষ্টি করা যায় তা কে জানত! কালের নিয়মে টাইপরাইটার হয়তো ব্রাত্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই শিল্পের কাছে আজও তা প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি।
The post টাইপরাইটারে শচীনের ছবি ফুটিয়ে তুলে তাক লাগালেন এই শিল্পী appeared first on Sangbad Pratidin.
