সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খেলার আগেও যা ছিল, খেলার পরেও তা৷ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হল৷ নয়া রেকর্ড তৈরি হল৷ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও এগিয়ে গেল এক কদম৷ ক্রিকেটাররাও সম্ভবত নিজেদের সাফল্য-ব্যর্থতা ভুলে আগামীর দিকে এগিয়ে গেলেন৷ কিন্তু একটুও এগোল না বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের সংস্কৃতি৷ ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে অপমান করেই যেন হারের ক্ষতে মলম দিলেন তাঁরা৷
[ রোহিত-কোহলির ব্যাটিং ঝড়ে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের ]
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি হওয়া মাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিল উত্তাপ৷ চলছিল নানা উসকানিমূলক মন্তব্য ও প্রতি মন্তব্য৷ সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ যে দুরন্ত ক্রিকেটের নমুনা রেখেছে তা অস্বীকারের জায়গা নেই৷ কিন্তু বাস্তব ও স্বপ্নের সীমানার ভিতর যে একটা বাইশ গজ থেকে যায়, তা সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি ফ্যানরা৷ তাই শালীনতার সীমা অতিক্রম করে আক্রমণ করেছিলেন ভারতের জাতীয় পতাকাকে৷ তা আঁকা হয়েছিল কুকুরের গায়ে৷ দেশকে ভালবাসতে গিয়ে, দেশের ক্রিকেটারদের গ্লোরিফাই করতে গিয়ে চূড়ান্ত হীন মনোভাবের পরিচয় দিয়ে ফেলেছিলেন বাংলাদেশি ফ্যানরা৷ তা নিয়ে সরগরম হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া৷
[ ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা, বিতর্কে বাংলাদেশি ফ্যানের ক্রিকেটভক্তি ]
কিন্তু দুই দেশের ক্যাপ্টেনই কূটকচালিতে কান দেননি৷ মন দিয়েছিলেন খেলায়৷ আজ তাই তামিম-মুশফিকুরের প্রতিরোধে একসময় চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল বিরাটদের কপালে৷ কিন্তু এখন সে সব অতীত৷ বড় মঞ্চে কীভাবে ম্যাচ বের করে আনতে হয় তা ভারতীয় ক্রিকেটাররা জানেন৷ দক্ষতা থাকলেও বাংলাদেশ বোধহয় মার খেল এইখানেই৷ ফলত ওই সময়টুকু ছাড়া আর কখনওই মনে হয়নি যে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভাল খেলছে৷ মাশরাফিদের বোলিং নিয়ে তো রীতিমতো ছিনিমিনি খেললেন বিরাটরা৷ এই যখন খেলার ফলাফল তখনও কিন্তু ভারতকে আক্রমণ থেকে বিরত থাকলেন না বাংলাদেশি ফ্যানরা৷ ময়দানে বিরাট যে চার্জড আপ থাকেন তা সকলেই জানেন৷ বাংলাদেশি এক ব্যাটম্যানের শট তালুবন্দি করেই জিভ বের করে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন৷ সে ছবির সঙ্গেই কুকুরের ছবি যোগ করে বাংলাদেশি এক ক্রীড়াপ্রেমী লেখেন, দু’জনের অভিব্যক্তি এরকমই৷ সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভারতীয়দের গোচরে আসে৷ শুরু হয় প্রবল চাপানউতোর৷
[ সানিয়া মির্জাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সৌরভের, ভাইরাল ভিডিও ]
খেলা শেষ৷ চলছে কাটাছেঁড়া৷ ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে দাপট দেখাতে হলে আরও খানিকটা রান করতে হত বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক৷ অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভাল খেলছে ঠিকই, কিন্তু এরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ক্ষেত্রে তাঁদের অনেকটা পরিণতিবোধের পরিচয় দিতে হত৷ ধৈর্য ধরতে হত৷ সাব্বিরের মতো ব্যাটসমানরা যেরকম হঠকারিতার পরিচয় দিলেন, তা দিয়ে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল জেতা যায় না৷ কিন্তু এসব ক্রিকেটিয় যুক্তির ধারও ধারছে না বাংলাদেশের ট্রোল সংস্কৃতি৷ অনায়াসে ভারত অধিনায়ককে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করতে বাধছে না তাঁদের৷ প্রশ্ন উঠছে, অন্যকে খাটো করে নিজেদের বড় দেখানো যায় কি? ক্রিকেটের পাশাপাশি এই সংস্কৃতির দিকেও বোধহয় বাংলাদেশের নজর দেওয়া উচিত, সোশ্যাল মিডিয়ায় এরকম কথাও বলছেন অনেকেই৷
The post ম্যাচ হেরে ফেসবুক পোস্টে বিরাটকে অপমান বাংলাদেশি ফ্যানের appeared first on Sangbad Pratidin.
