স্মার্টফোন এখন ঢুকে পড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায়। ঘুম ভাঙা থেকে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত সকলেই বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারেন ফোনেই। সেই কারণেই বর্তমানে ফোন কেনার ক্ষেত্রে সকলেই প্রথমে দেখে নেন ব্যাটারি ক্যাপাসিটি। কারণ, পথে ঘাটে বেরিয়ে চার্জ দেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে ফোন বন্ধ হয়ে গেলে আরেক বিপদ! তাই এতদিন দেখা যাচ্ছিল অধিকাংশ সংস্থাই ৬০০০ থেকে ৭০০০ mAh ব্যাটারি দিচ্ছিল স্মার্টফোনে। সম্প্রতি ট্রেন্ডিং ৯০০০ mAh ব্যাটারি। কিন্তু সত্যিই কি প্রয়োজন আছে এত পাওয়ারফুল ব্যাটারির? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেটাই।
আগে জেনে নেওয়া যাক, কেন এত পাওয়ারফুল ব্যাটারি দিচ্ছে সংস্থা? বিশেষত ছোট শহরের বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখেই একাজ করে মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো। কারণ, সেখানে সর্বত্র চার্জিং স্টেশন থাকে না। এদিকে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকলে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়াই খুব স্বাভাবিক। সেই কারণেই বেশি পাওয়ারফুল ব্যাটারি দেওয়ার চেষ্টা করে সংস্থা।
৯০০০ mAh ব্যাটারির সুবিধা কী কী
১. দিনে কেন, দু'দিনে একবার চার্জ দিলেও দিব্যি চলতে পারে। যদিও সেক্ষেত্রে আপনি দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করেন, তা দেখার।
২. যারা দিনভর গেম অথবা সোশাল মিডিয়ায় ডুবে থাকেন, তাঁদের জন্য এই ব্যাটারি আদর্শ।
৩. যারা নিয়মিত ঘুরতে যান, তাঁদের কাছে যদি এই পাওয়ারফুল ব্যাটারি অত্যন্ত কার্যকরী। কারণ, তাহলে আর পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।
৪. বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা সর্বদা চার্জ নিয়ে আতঙ্কে ভোগেন। ভাবেন, এই বুঝি বন্ধ হয়ে গেল ফোন! এই ৯০০০ mAh ব্যাটারির ফোন তাঁদের দুশ্চিন্তা যে কমাবে, তা বলাই বাহুল্য।
৯০০০ mAh ব্যাটারির অসুবিধা কী কী
১. ব্যাটারির পাওয়ার যত বেশি, ওজনও তত বেশি। তাই এই ফোনগুলি তুলনামূলকভাবে ভারি হয়।
২. যে ফোনের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি যত বেশি, সেটি চার্জিংয়েও ততবেশি সময় লাগে। যা একটা সমস্যা বইকি।
৩. এক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ব্যবহার করলে ফোন গরম হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
কিন্তু সত্যিই কি প্রয়োজন আছে ৯০০০ mAh ব্যাটারির?
যারা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলেন, অফিসের কাজে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকেন, অবিরত ৫ জি নেটওয়ার্ট ব্যবহার করেন, বারবার চার্জ দিতে চান না, তাদের জন্য এই ফোন আদর্শ। তবে বাকিদের ক্ষেত্রে না হলেও ক্ষতি নেই।
