রাজ্যে পালাবদলের পরই হুহু করে পালটাচ্ছে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে ছবিটাও। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের 'দখল' হয়ে থাকা ঘরগুলি উদ্ধার হয়েছে। এবার 'তৃণমূল নেতাদের অধীনস্থ' ক্লাবগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হল। জানা গিয়েছে, অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাসের ক্লাব বলে পরিচিত সুরুচি সংঘের অনুশীলন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে শ্রীভূমি এফসি এবং ডায়মন্ড হারবার এফসিও কি একই পথে হাঁটবে? উঠছে প্রশ্ন।
সুরুচির কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বুধবার শেষ অনুশীলন হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হন স্বরূপ। যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। অস্ত্র আইনে মামলাও দায়ের হয়েছে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে। আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। কলকাতা ময়দানে সুরুচি সংঘের পরিচিতি ছিল বিশ্বাস ব্রাদার্সের নামেই। তাঁদের 'দুর্দিনে' ক্লাবের কী দশা হবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রঞ্জন জানিয়েছেন, ক্লাবের তরফ থেকে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু বেশ কয়েকজন ফুটবলার অনুশীলন বন্ধ হতেই দল ছেড়েছেন। কলকাতা লিগের অন্যান্য দলে সই করেছেন তাঁরা। যদিও সুরুচির তরফ থেকে ফুটবলারদের এখনও ক্লাব ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রঞ্জনের কথায়, দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে তিনি শক্তিশালী দল গড়েছিলেন এবছর। শক্তিশালী টিমগুলিকে টক্কর দিতে পারত সুরুচি। কিন্তু আপাতত অনুশীলন বন্ধ। ক্লাব কর্তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। স্রেফ বলা হয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে অপেক্ষা করতে।
সুরুচির মতো অবস্থায় পড়েছে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ক্লাব শ্রীভূমি স্পোর্টিংও, এমনটাই সূত্রের খবর। তারাও আসন্ন কলকাতা লিগ খেলবে কিনা সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, সদ্য আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ডায়মন্ড হারবার এফসির অবস্থাও সঙ্গীন। আইএফএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখনও অনুশীলন শুরু করতে পারেনি তারা। সামনেই নতুন মরশুমের কলকাতা লিগের খেলা। শোনা যাচ্ছে, গত দু'মাস বেতন পাননি সাপোর্ট স্টাফ-সহ অনেকেই। তাহলে কি কলকাতার ফুটবল থেকে এবার বিদায় নেবে এই ক্লাবগুলি?
