হোয়াইট হাউসের রেড কার্পেটে হাঁটছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। আর তাঁর পাশে হাঁটছে একটি রোবট! যার নাম 'ফিগার ০৩'। সাধারণ কোনও যন্ত্রমানব নয়, সে এক নিখুঁত হিউম্যানয়েড। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়িতে উপস্থিত অতিথিদের তাক লাগল তাকে দেখে। যেভাবে রোবটটি তাঁদের অভিবাদন জানাল, নানা ভাষায় কথা বলল সেসব দেখে যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁদের।
'ফিগার' নামের একটি সংস্থার তৈরি এই রোবটটিকে প্রযুক্তির জগতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে এআই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জগতে তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। এবার কি তার শরীরী রূপ গ্রহণ করার পালা? নতুন এই রোবট যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। যে অনুষ্ঠানে ওই রোবটকে দেখা গিয়েছে, সেখানে মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ধরনের যন্ত্রমানব আমাদের ভবিষ্যৎ। আগামিদিনে ক্লাসরুমে মেধাবী শিক্ষক হিসেবে একে দেখা যেতে পারে। প্রত্যেক পড়ুয়ার গ্রহণের ক্ষমতা অনুযায়ী গতিতে তাকে পড়া বোঝানোর ক্ষমতা রাখে এই ধরনের অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড। এমনকী, তাদের আবেগও বুঝতে পারবে সে।
সুতরাং বলাই যায়, পরিস্থিতি যা ভবিষ্যতে এআই এভাবেই সফটওয়্যার থেকে শরীরী রূপ ধারণ করে মানুষের সঙ্গ দেবে। করে দেবে তার দৈনন্দিন কাজ। কয়েক বছর আগেও যা কল্পবিজ্ঞান কাহিনি বলেই মনে হত আজ তা রক্তমাংসের বাস্তব হতে চলেছে। কিন্তু এই ধরনের রোবটের ক্ষেত্রে একটা উদ্বেগ থেকেই যায়। তা হল কোনওভাবেই তার থেকে কোনওরকম আঘাত যেন না পান আশপাশে থাকা মানুষ! সেদিকে নজর থাকছে নির্মাতা সংস্থার। জানা গিয়েছে, নরম উপাদান ও প্যাডিং ব্যবহার করা হচ্ছে এই ধরনের বিপত্তি রুখতে। এবং কথোপকথনকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে তুলতে রোবটটির কথা বলার ভঙ্গিকে অনেকটাই মানুষের মতো করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাছাড়া এর রিচার্জের ক্ষেত্রেও কোনও কেবল লাগবে না। আপনাআপনিই তা নিজেকে রিচার্জ করে নিতে পারবে। শিগগিরি এই ধরনের রোবট অনেক বেশি করে উৎপাদন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। যাকে ঘিরে প্রশ্ন জাগে, সত্যজিতের 'অনুকূল' কিংবা আসিমভের 'আই, রোবট'-এর মতো কাহিনি কি এবার চোখের সামনে ঘটতে দেখা যাবে?
