সারা সপ্তাহের হাড়ভাঙা খাটুনি। শেষে একটু রিল্যাক্সেশন। নরম আলো, হালকা গান। আর হাতে এক গ্লাস রেড ওয়াইন। মন ভালো করতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে জানেন কি, এই ওয়াইন শুধু মনের জন্য নয়, ত্বকের জন্যও। বিউটি দুনিয়ায় এখন হইচই ফেলে দিয়েছে এক নতুন ট্রেন্ড। নাম তার 'ভাইনোথেরাপি' (Vinotherapy)। রূপটানে এখন ওয়াইনের ব্যবহারই হয়ে উঠেছে নতুন দস্তুর।
প্রতীকী ছবি
ভাইনোথেরাপি আসলে কী?
নাম শুনে খটকা লাগলেও বিষয়টি বেশ সহজ। আঙুর থেকে ওয়াইন তৈরির পর যে অংশগুলি পড়ে থাকে, মূলত সেই বীজ, খোসা আর পাল্প দিয়েই তৈরি হয় বিশেষ কিছু প্রসাধনী। ফেলে দেওয়া এই অংশগুলি মোটেও ফেলনা নয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা ত্বকের অকাল বার্ধক্য রুখতে দারুণ কাজ করে। নব্বইয়ের দশকের শেষে ফ্রান্সে এই ধারণার জন্ম। ম্যাথিল্ড থমাস ও তাঁর স্বামী বার্ট্রান্ড প্রথম এই ঘরানার রূপটান জনপ্রিয় করেন। তাঁদের হাত ধরেই 'কডালি' ব্র্যান্ডের উত্থান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই থেরাপির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
ছবি: সংগৃহীত
ত্বকের উপর কীভাবে কাজ করে?
আঙুরকে এখন ত্বকের নতুন 'সুপারহিরো' বলা হচ্ছে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের জ্বালাভাব কমায়। ব্রণর সমস্যায় যারা নাজেহাল, তাঁদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। পাশাপাশি আঙুরে থাকা ট্যানিন ত্বকের রন্ধ্রগুলি টানটান রাখে। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বাংলার আর্দ্র আবহাওয়ায় এই থেরাপি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ওয়াইনের প্রাকৃতিক অ্যাসিড মৃত কোষ সরিয়ে ত্বককে করে তোলে মসৃণ ও উজ্জ্বল।
প্রতীকী ছবি
সতর্ক থাকবেন কারা?
তবে মনে রাখবেন, সব চকচকে জিনিসই সোনা নয়। ভাইনোথেরাপি সবার ত্বকে সইবে এমনটা ভাবার কারণ নেই। বিশেষ করে যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরাসরি ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এই থেরাপির পর ত্বক সূর্যালোকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই সানস্ক্রিন মাখা বাধ্যতামূলক। যাদের আঙুরে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের এই থেরাপি থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল। মনে রাখবেন, রূপটান কোনও জাদু নয়। রাতারাতি ফল পাওয়ার আশা না করে একে অভ্যাসে পরিণত করলেই মিলবে দীর্ঘমেয়াদী জেল্লা।
