বঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। কিছুদিনের মধ্যে গরম আরও বাড়বে। আলসে দুপুরে জানলার পর্দা সরলেই তখন আগুনের হলকা। যাদের ছাদবাগান করার অভ্যেস রয়েছে, তারা এসময় মনখারাপ করেন। এমন বহু গাছ রয়েছে যা তীব্র রোদে শুকিয়ে মরে যায়। চোখের সামনে সাধের বাগান নষ্ট হয়। প্রিয় চারাগুলোর দশা দেখলে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে এমন কিছু গাছ রয়েছে যা তীব্র গরমেও দিব্যি থাকে। আসলে রোদের তেজের সঙ্গে লড়াই করার সাধ্যি সব গাছের নেই। তাই, যারা গাছ ভালোবাসেন, ছাদকে সবুজে ভরিয়ে রাখতে চান, তাঁদের জন্য রইল বিশেষ কয়েকটি গাছের হদিশ। তীব্র গরমেও আপনার ছাদবাগান থাকবে চির-রঙিন। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে চারপাশ।
ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের প্রখর তাপে টবের মাটি খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। জল দিয়েও অনেক সময় কুলিয়ে ওঠা যায় না। তাই এই সময়ে এমন গাছ বেছে নেওয়া জরুরি যারা জল ধরে রাখতে পটু। একই সঙ্গে সরাসরি সূর্যালোক সইতে পারে। এই তালিকায় প্রথম নাম বোগেনভিলিয়া বা বাগানবিলাস। খুব কম জলে এবং কড়া রোদে এই গাছের মতো বাহারি ফুল আর কেউ দিতে পারে না। বাড়ির পাঁচিল বা গ্রিল বেয়ে ওঠা গোলাপি, সাদা বা কমলা রঙের এই ফুলগুলি যেন গ্রীষ্মের নিজস্ব রং।
ছবি: সংগৃহীত
সুগন্ধি বাগান চাইলে জুঁই বা বেল ফুলের বিকল্প নেই। গরম যত বাড়ে, এদের সুবাস তত খোলে। রোদ এদের বন্ধু। তবে শুধু ফুল নয়, ইনডোর প্ল্যান্টের জগতেও গরম সামলানোর মতো ওস্তাদ গাছ রয়েছে। স্নেক প্ল্যান্ট তার মধ্যে অন্যতম। হাওয়া বাতাস কম থাকলেও এরা দিব্যি বেঁচে থাকে। আবার অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীও গ্রীষ্মের কষ্ট অনায়াসে সয়ে নেয়। এর ভেষজ গুণ বাড়তি পাওনা। এছাড়া জবা ফুলের গাছও রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে ভালো জন্মায়। জবা ফুলের টকটকে রং ছাদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। ছাদের আকর্ষণ বাড়াতে জবার পাশাপাশি রাখতে পারেন গাঁদা গাছ। ছোট টবে উজ্জ্বল রঙের এই গাছ গৃহের সৌন্দর্য বাড়ায়। মনকে সতেজ করে তোলে।
ছবি: সংগৃহীত
যাঁদের ফ্ল্যাটের বারান্দায় জায়গা কম, তাঁরা বেছে নিতে পারেন জেড প্ল্যান্ট। এটি একটি সাকুলেন্ট ঘরানার গাছ। এর মোটা পাতাগুলি জল জমিয়ে রাখে। ফলে রোজ জল দেওয়ার ঝক্কি নেই। আবার ছাদে রঙের মেলা বসাতে চাইলে পেটুনিয়া আর জিনিয়া আদর্শ। সারা গ্রীষ্ম জুড়ে এরা থোকায় থোকায় ফুল দেয়। এই গাছগুলোর জন্য খুব একটা যত্নের দরকার হয় না। শুধু একটু নজর রাখলেই হল।
ছবি: সংগৃহীত
বাগান মানেই যে সারাদিন পড়ে থাকতে হবে, তা নয়। এই গরমে ক্যাকটাস বা বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্টও দারুণ অপশন। এগুলি জল ছাড়াই দিনের পর দিন সতেজ থাকে। মনে রাখবেন, দুপুরের চড়া রোদে জল না দিয়ে ভোরে বা বিকেলে জল দেওয়া ভালো। গাছের গোড়ায় মালচিং করলে আর্দ্রতা অনেকক্ষণ বজায় থাকে। সঠিক বাছাই আর সামান্য পরিচর্যা থাকলে, এই তপ্ত দহনেও আপনার বাগান হয়ে উঠতে পারে এক চিলতে শান্তির নীড়।
