ওপেনএআই-এর হাত ধরে এবার কি আমূল বদলে যেতে চলেছে আমাদের অন্দরমহল? নিছকই একটি চ্যাটবট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা চ্যাটজিপিটি এবার বাস্তবের মাটিতে পা রাখতে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কারের মধ্যেই এ যেন এক চমকপ্রদ খবর। এবার খোদ স্যাম অল্টম্যানের সংস্থা আনতে চলেছে নিজস্ব স্মার্ট স্পিকার। তবে এটি বাজারের সাধারণ কোনও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট নয়। এতে থাকতে পারে চোখ ধাঁধানো সব আধুনিক প্রযুক্তি।
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপলের প্রাক্তন কিংবদন্তি ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন অল্টম্যান। গত বছরই বিপুল অঙ্কের বিনিময়ে আইভের ডিজাইন সংস্থাকে অধিগ্রহণ করেছে ওপেনএআই। লক্ষ্য একটাই— প্রযুক্তির সঙ্গে নান্দনিকতার মেলবন্ধন ঘটানো। সূত্রের খবর, এই নতুন স্মার্ট স্পিকারে থাকবে ইন-বিল্ট ক্যামেরা এবং উন্নত ফেশিয়াল রিকগনিশন বা মুখাবয়ব চেনার প্রযুক্তি। অর্থাৎ, ঘরে ঢুকলেই যন্ত্রটি আপনাকে চিনতে পারবে। শুধু মানুষ নয়, আশেপাশের আসবাবপত্র বা অন্যান্য জিনিসও চিনে নিতে সক্ষম হবে এই যন্ত্রটি। আপনার কথোপকথন শুনে সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে এর।
দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই গেজেটটির দাম হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৮ হাজার থেকে ২৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে এই অভাবনীয় প্রযুক্তি হাতে পেতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে আগ্রহীদের। ২০২৭ সালের মার্চের আগে এই স্মার্ট স্পিকার বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে এটি উন্নয়নের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। ওপেনএআই-এর ঝুলি থেকে বেরোতে পারে আরও নানা চমক। স্মার্ট স্পিকারের পাশাপাশি সংস্থাটি স্মার্ট গ্লাস বা চশমা এবং স্মার্ট ল্যাম্প তৈরির পরিকল্পনাও করছে। ল্যাম্পের কিছু প্রোটোটাইপ বা খসড়া মডেল ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে খবর। তবে সেগুলি ২০২৮ সালের আগে সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে না।
ছবি: সংগৃহীত
বাজারের এই লড়াইয়ে ওপেনএআই কিন্তু একা নয়। টেক-জায়ান্ট অ্যাপলও পিছিয়ে নেই। শোনা যাচ্ছে, অ্যাপলও ক্যামেরা-যুক্ত স্মার্ট চশমা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন বিশেষ ধরনের পেনডেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে। এমনকী পরবর্তী প্রজন্মের এয়ারপডসেও থাকতে পারে অভাবনীয় এআই ফিচার। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক বছরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব যে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জনি আইভ ও স্যাম অল্টম্যানের এই যুগলবন্দি প্রযুক্তিবিশ্বে কতটা আলোড়ন তোলে।
