নিট ইউজি ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রুখতে ২২ জুন পর্যন্ত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে টেলিগ্রামের উপরে। প্রশ্ন উঠছে, টেলিগ্রামের উপরে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নেমে এলেও কেন ছাড় দেওয়া হল মেটার মেসেজিং অ্যাপকে?
বলে রাখা ভালো, দুই অ্যাপই জনপ্রিয়। কার্যক্ষমতা প্রায় একই। কিন্তু রেহাই পেয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এটা বুঝতে গেলে গোটা বিষয়টা নিয়ে কথা বলা দরকার। জানা যাচ্ছে, ‘পেপার লিকড লিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’, ‘রি নিট মাফিয়া’র মতো নামের টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল প্রকাশ্যে। এবং পরীক্ষার্থীদের থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। এখন এই সব গ্রুপ তথা টেলিগ্রামই নিষিদ্ধ করে দিলে যারা এর নেপথ্যে, তারা হোয়াটসঅ্যাপে এসে একই কাজ করতে পারে। তবু হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করা হয়নি।
আসলে এর পিছনে রয়েছে দুই অ্যাপের ভাবমূর্তি। প্রথম থেকেই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথে হাঁটেনি টেলিগ্রাম, যা হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা এক্স করেছে। আরেকটা বিষয়ে টেলিগ্রাম পিছিয়ে। হোয়াটসঅ্যাপে মেটা নানা ধরনের এআই টুল ব্যবহার করে ইউজারদের প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করে। সরাসরি ইউজারদের কথাবার্তা বা তাঁরা কী শেয়ার করেছেন সেটা অবশ্য হোয়াটসঅ্যাপ দেখে না। কিন্তু এইভাবে তারা নিয়মিত নজরদারি চালায়, যাতে কেউ প্ল্যাটফর্মটিকে কাজে লাগিয়ে কোনও ধরনের বেআইনি কাজ না করতে পারে। বিশেষ করে পাবলিক গ্রুপগুলির দিকে কড়া নজর থাকে। এই কারণেই কিন্তু জালিয়াত কিংবা সাইবার অপরাধীরা টেলিগ্রামকেই বেশি পছন্দ করে! আর এই কারণেই হোয়াটসঅ্যাপকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনেনি সরকার।
এদিকে এনটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
