অতুলচন্দ্র নাগ, ডোমকল: অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে রানিনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন হল। বাম-কংগ্রেস জোটকে পরাস্ত করে রানিনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন করল তৃণমূল। সোমবার পঞ্চায়েত সমিতির ন’টি স্থায়ী সমিতির নির্বাচন ছিল। আর ওই নির্বাচন ঘিরে এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরে।
জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠনের শুরুতেই ২২-১৮ ভোটে জনস্বাস্থ্য, পূর্ত ও ক্রীড়া তিনটি স্থায়ী সমিতির ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট পরাজিত হয়। বাকি স্থায়ী সমিতিগুলিতেও একই অবস্থা সৃষ্টি হবে ধারনায় বেগতিক বুঝে তারা ওয়াক আউট করে বেরিয়ে যান। যার জেরে তৃণমুল কংগ্রেস বাকি ৬টি স্থায়ী সমিতিতে অনায়াসেই গঠন করে তৃণমূল। জানান রানিনগরের তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেন।
[আরও পড়ুন: ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর খবরের জের, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেল মালদহের দৃষ্টিহীন পরিবার]
বাইরে বেরিয়ে রানিনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাম-কংগ্রেস জোটের কুদ্দুস আলি জানান, “আমাদের ধারনা ছিল কংগ্রেসের যে তিনজন সদস্যকে তৃণমূল জোর করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে তারা আমাদেরকেই সমর্থন জানাবে। কিন্তু তারা জনগণের সঙ্গে গদ্দারি করল। তাই আমরা বেরিয়ে আসলাম।” তিনি এও জানান, “আমরা এখনও আশাবাদী আগামী দিনে কর্মাধ্যক্ষরা আমাদের পাশেই থাকবেন।”
যদিও ওই কথা নস্যাৎ করে সৌমিক হোসেন বলেন, “চাইলে আজকেই এই রেজাল্ট ৩২/১০ হতে পারত। কারন গত কালকেও বাম কংগ্রেস জোটের বেশ কয়েকজন সদস্য তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়ে যোগাযোগ করেছিল। আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ এমনিতে উর্মিলাকে নেওয়ায় বার বার হাইকোর্টে মামলা হওয়ায় স্থায়ী সমিতি গঠন পিছিয়ে যাচ্ছিল। আর যাতে ওই অবস্থা না হয় তাই তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। আগামিকাল থেকে আবার যদি তারা আসতে চায় তো নেওয়া হবে।” এর পরেই তিনি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরিকে উদ্দেশ্য করে টিপ্পনি করেন। বলেন, “আপনি রাজ্যের নেতা, আপনাকে রাজ্যে কেউ ডাকে না। বহরমপুরে বসে পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে এত ইন্টারেস্ট কেন দেখান?” এর পরেই বলেন, “রানিনগরের মানুষ অধীর চৌধুরির মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে।” এদিনের স্থায়ী সমিতিতে দলের জয় হওয়া তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক ডেলার সভাপতি শাওনি সিংহ রায় জানান “ বাম কংগ্রেসের জন্য রানিনগরের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছিল। এখন থেকে সেটা আবার শুরু হবে।”