shono
Advertisement
Solo Travel

ভিড়ভাট্টা ভুলে নিজের সঙ্গে ডেট! সোলো ট্রাভেলারদের সেরা ৫ গাইড ম্যাপ

অফিসের চেনা কিউবিকল। একঘেয়ে টাইমটেবিল। রোজকার চেনা ছক। এই খোলস ভেঙে বেরিয়ে পড়তে চান? যাবতীয় টানপোড়েন বাদ দিন। শুধু আপনি আর আপনার একলা আকাশ। কোথায় যাবেন?
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:17 PM May 25, 2026Updated: 05:17 PM May 25, 2026

অফিসের চেনা কিউবিকল। একঘেয়ে টাইমটেবিল। রোজকার চেনা ছক। এই খোলস ভেঙে বেরিয়ে পড়তে চান? যাবতীয় টানপোড়েন বাদ দিন। শুধু আপনি আর আপনার একলা আকাশ। গত কয়েক বছরে বাঙালির মজ্জায় ঢুকে পড়েছে ‘সোলো ট্রিপ’ বা একলা ভ্রমণের নেশা। নিজের সঙ্গে ডেটে যাওয়া বলতে পারেন। পুরুষ হোক বা মহিলা— কাঁধে একটা ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়ার মজাই আলাদা।

Advertisement

কিন্তু একা বেরোলেই মাথায় ঘোরে হাজারটা চিন্তা। জায়গাটা নিরাপদ তো? একা থাকার জন্য সস্তায় হস্টেল কি আদৌ মিলবে? যাতায়াতের ঝক্কি কেমন? চিন্তা ছাড়ুন। পাহাড়ের মেঘ-কুয়াশা থেকে সমুদ্রের নোনা হাওয়া— ভারতের বুকেই রয়েছে এমন ৫ জায়গার হদিস। রইল গাইড ম্যাপ।

ছবি: সংগৃহীত

১. ঋষিকেশ: উত্তরাখণ্ডের এই ছোট্ট শহরটি একলা পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য। একদিকে গঙ্গার কলতান, অন্যদিকে হিমালয়ের শান্ত রূপ। অ্যাডভেঞ্চার আর মানসিক শান্তি— দুই-ই মিলবে একসঙ্গে।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে বা বিমানে প্রথমে পৌঁছন দেহরাদুন বা হরিদ্বার। সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি চেপে সহজেই চলে যাওয়া যায় ঋষিকেশ।

কখন যাবেন: সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে মে মাস এখানে যাওয়ার সেরা সময়।

দর্শনীয় স্থান: লক্ষণ ঝুলা, রাম ঝুলা, ত্রিবেনী ঘাট। আর সন্ধের গঙ্গা আরতি মিস করবেন না। ইচ্ছে হলে করতে পারেন রিভার রাফটিং বা বাঞ্জি জাম্পিং। থাকার জন্য প্রচুর সস্তার ক্যাফে ও ব্যাকপ্যাকার্স হস্টেল রয়েছে এখানে।

২. উদয়পুর: রাজস্থানের এই শহর একা ঘুরে বেড়ানোর জন্য ভীষণ নিরাপদ। এখানকার সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তা একলা ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে সরাসরি উদয়পুরের ট্রেন রয়েছে। বিমানে যেতে চাইলে দিল্লি বা মুম্বই হয়ে উদয়পুর পৌঁছনো যায়।

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় রাজস্থানের আবহাওয়া মনোরম থাকে।

দর্শনীয় স্থান: সিটি প্যালেস, লেক পিচোলা, জগ মন্দির এবং ফতেহ সাগর লেক। সন্ধেবেলা লেকের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখার অনুভূতি সারাজীবন মনে রাখার মতো।

প্রতীকী ছবি

৩. গোকর্ণ: গোয়ার ভিড়ভাট্টা যদি অপছন্দ হয়, তবে কর্ণাটকের গোকর্ণ আপনার পারফেক্ট ডেস্টিনেশন। শান্ত, স্নিগ্ধ সমুদ্রসৈকত আর পাথুরে পাহাড়ের যুগলবন্দি দেখা যায়। একলা হেঁটে বেড়ানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা খুব কম আছে।

কীভাবে যাবেন: বিমানে গোয়া পৌঁছে সেখান থেকে ট্যাক্সি বা ট্রেনে গোকর্ণ যাওয়া সবচেয়ে সহজ। ট্রেনে এলে মডগাঁও বা উদুপি হয়ে পৌঁছনো যায়।

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মার্চ।

দর্শনীয় স্থান: ওম বিচ, কুডলে বিচ, হাফ মুন বিচ এবং বিখ্যাত মহাবালেশ্বর মন্দির। এখানকার সৈকত ধরে ‘বিচ ট্র্যাকিং’ সোলো ট্রাভেলারদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

৪. হিমাচলের জিবহি: কসোল বা মানালির চেনা ভিড় এড়িয়ে যদি পাইন বনের নিস্তব্ধতা চান, তবে চলে যান কুল্লু জেলার জিবহি। কাঠের তৈরি ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি। আর পাহাড়ি নদীর শব্দে ঘেরা এই গ্রাম। একলা মনকে নিমেষে ভালো করে দিতে বাধ্য।

কীভাবে যাবেন: দিল্লি থেকে মানালিগামী বাসে উঠে নামতে হবে ঔট। সেখান থেকে লোকাল বাস বা ট্যাক্সিতে জিবহি।

কখন যাবেন: মার্চ থেকে মে মাসের সবুজ রূপ অথবা ডিসেম্বর-জানুয়ারির বরফ দেখতে যেতে পারেন।

দর্শনীয় স্থান: জিবহি জলপ্রপাত, জালোড়ি পাস এবং সেরোলসর লেক। এখানে প্রচুর হোমস্টে আর হস্টেল রয়েছে, যেখানে কম খরচে থাকা ও খাওয়ার দারুণ সুবিধা মেলে।

প্রতীকী ছবি

৫. পুদুচেরি: তামিলনাড়ুর কোল ঘেঁষে থাকা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। মনে হবে যেন ইউরোপের কোনও দেশ। ফরাসি স্থাপত্য, হলুদ রঙের বাড়ি আর শান্ত সমুদ্র সৈকত— একা ঘুরে ছবি তোলার জন্য এর চেয়ে সেরা জায়গা আর হয় না।

কীভাবে যাবেন: বিমানে বা ট্রেনে প্রথমে পৌঁছন চেন্নাই। সেখান থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার বাস বা ট্যাক্সি জার্নিতে পৌঁছে যান পুদুচেরি।

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মার্চ।

দর্শনীয় স্থান: প্রমেনেড বিচ, ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার, অরবিন্দ আশ্রম এবং অরোভিল। একটা স্কুটি ভাড়া করে একাই চষে ফেলতে পারেন গোটা শহর।

একলা পথিকের নোটবুক
সোলো ট্রিপে যাওয়ার আগে হোটেলের বদলে হস্টেল বুক করতে পারেন। এতে খরচ যেমন কমে, তেমনই দেশ-বিদেশের বহু একলা মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। ধরা দেয় নতুন এক পৃথিবী। তাহলে আর দেরি কেন? গুছিয়ে নিন ব্যাগটা। এবার না হয় নিজের সঙ্গেই একটু গল্প হোক!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement