জগন্নাথ ধাম, কোণার্কের সূর্য মন্দির কিংবা গোপালপুর। ওড়িশার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই স্থানগুলি। কিন্তু এই চেনা পথের বাইরেও রয়েছে অন্য এক ওড়িশা। যেখানে রয়েছে শান্ত প্রকৃতি, লোকশিল্পের অনন্য নিদর্শন আর নির্জনতার রূপকথা। কলকাতা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে, ট্রেনের সফর আর কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এমন কিছু অচেনা নিভৃত কোণে। সাপ্তাহিক ছুটির মেজাজে এমন কিছু অনাবিষ্কৃত স্থানে হারিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। রইল ওড়িশার তেমনই ৫ লুকিয়ে থাকা রত্নের ঠিকানা।
পাহাড়ি ঝরনা সীতাকুণ্ড।
সীতাকুণ্ড জলপ্রপাত
ময়ূরভঞ্জ জেলার শিমলিপাল জাতীয় উদ্যানের কাছেই এর অবস্থান। পিঠাবাটা গেট থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পাহাড়ি ঝরনা সীতাকুণ্ড। লোকশ্রুতি বলে, রামায়ণের বনবাসকালে দেবী সীতা এখানে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের ধারা আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় পাথর— সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মায়াজাল তৈরি করে। শীতের সকালে রোদের আলোয় পাথরজুড়ে বসে সময় কাটানো বা ছোট্ট পিকনিকের জন্য এটি আদর্শ জায়গা।
এই ড্যামের সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।
বালিডিহা ড্যাম
ময়ূরভঞ্জেরই পালপালা নদীর ওপর ১৯১২ সালে তৈরি হয় এই বিশাল জলাধার। চাষবাস আর সেচের কাজে তৈরি হলেও এর সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। চারপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের কোল আর মাঝখানে শান্ত নীল জলাশয়। জলের গভীরতা যেখানে কম, সেখানে পা ডুবিয়ে অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায় একটা অলস দুপুর। শহরের কোলাহল ভুলে শান্ত প্রকৃতি উপভোগ করতে চাইলে এই ড্যামের বিকল্প নেই।
আস্ত ছবি আঁকা গ্রাম রঘুরাজপুর।
রঘুরাজপুর গ্রাম
পুরী থেকে কিছুটা দূরে এক আস্ত ছবি আঁকা গ্রাম রঘুরাজপুর। গ্রামের প্রতিটি ঘরের দেওয়ালে রঙের ছোঁয়া। এ তল্লাটের মানুষ বংশানুক্রমে ঐতিহ্যবাহী পট্টচিত্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় তালপাতা, কাপড়ের টুকরো বা নারকেলের খোল। প্রাকৃতিক রং দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় রামায়ণ, মহাভারত আর লোকগাথার নানা গল্প। শিল্পীদের ঘরে বসে সরাসরি শিল্পকর্ম তৈরির সাক্ষী থাকা এক বিরল অভিজ্ঞতা।
পর্যটকদের ভিড় এখানে তুলনামূলক কম।
স্বর্গদ্বার সৈকত
পুরীর গোল্ডেন বিচ বা সাধারণ সৈকতের ভিড় থেকে আলাদা হতে চাইলে চলুন স্বর্গদ্বার বিচে। নামটা অনেকের চেনা হলেও পর্যটকদের ভিড় এখানে তুলনায় কম। সকালে নির্জন সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখা কিংবা লালচে সন্ধ্যায় সমুদ্রের পাড়ে হাঁটার অনুভূতি ভারি মিষ্টি। স্থানীয়দের প্রিয় এই বিচে সকালের দিকে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ বিরাজ করে।
পুরীর শ্রীক্ষেত্র চত্বরের কাছেই অবস্থিত।
বিপদতারিণী চণ্ডী বাড়ি
পুরীর শ্রীক্ষেত্র চত্বরের কাছেই অবস্থিত এই ছোট কিন্তু জাগ্রত মন্দির। দেবী কালীর উগ্র রূপ এবং প্রভু জগন্নাথের আরাধনা করা হয় এখানে। বড় মন্দিরের ব্যস্ততার মাঝে এটি এক টুকরো নিভৃত স্থান। সাঁঝবেলায় সমবেত ভজনের সুর যখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তখন মনের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এক অলৌকিক প্রশান্তি।
