shono
Advertisement
Tea Destinations

সবুজ গালিচায় মেঘেদের আনাগোনা, ছুটির তালিকায় রাখুন দেশের সেরা ৬ 'টি-ডেস্টিনেশন'

সবুজে মোড়া চা-বাগানে কখনও হেঁটে বেরিয়েছেন? অদ্ভুত প্রশান্তির মধ্যে হারিয়েছেন নিজেকে? আপনার পরবর্তী সফরের জন্য যদি এখন থেকেই প্ল্যান করা শুরু করেন, তাহলে তালিকায় ঠাঁই দিন এই ৬ অনুপম চা-গন্তব্য। ভারতের কোথায় কোথায় যাবেন? রইল হালহকিকত।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:00 PM Mar 16, 2026Updated: 07:00 PM Mar 16, 2026

চায়ের ধোঁয়ায় যদি মিশে যায় পাহাড়ের নির্জনতা! আর মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজের গালিচা? ব্যাপারটা এটুকু কল্পনা করলেই হবে। পাহাড়ের কোলে মেঘ ভাসছে। আর বাংলা কবিতার মতো সবুজের মহাসমুদ্র। দুটি কচি পাতা ও একটি কুঁড়ির ঘ্রাণ। সে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চা পান করতে ভালোবাসেন নিশ্চই? অনেকে তো আবার রীতিমতো চা-পোকা। কিন্তু সবুজে মোড়া চা-বাগানে কখনও হেঁটে বেরিয়েছেন? অদ্ভুত প্রশান্তির মধ্যে হারিয়েছেন নিজেকে? আপনার পরবর্তী সফরের জন্য যদি এখন থেকেই প্ল্যান করা শুরু করেন, তাহলে তালিকায় ঠাঁই দিন এই ৬ অনুপম চা-গন্তব্য। ভারতের কোথায় কোথায় যাবেন? রইল হালহকিকত।

Advertisement

ছবি: সংগৃহীত

১. দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ: বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চায়ের ঠিকানা আমাদের ঘরের পাশেই। দার্জিলিং মানেই কুয়াশার চাদর আর টয় ট্রেনের বাঁশি। এখানকার ‘হ্যাপি ভ্যালি’ বা ‘ম্যাকাউবাড়ি’ চা বাগানগুলো পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ধাপে ধাপে সাজানো চা গাছগুলো যেন এক একটি সবুজ সিড়ি। এখানকার চায়ের স্বাদ আর সুবাস বিশ্বখ্যাত। সকালে ম্যাল থেকে হেঁটে চা বাগানের গভীরে চলে যাওয়া আর কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনালি আভার সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া— এই প্রাপ্তি অমূল্য।

ছবি: সংগৃহীত

২. মুন্নার, কেরল: কেরলের ইদুক্কি জেলার মুন্নার যেন শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই শৈলশহরটি ভারতের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদনকারী কেন্দ্র। এখানকার ‘কানন দেবান হিলস’ পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। এখানে একটি আস্ত চা মিউজিয়াম রয়েছে, যেখানে ১৯০৫ সালের চা তৈরির প্রাচীন পদ্ধতিগুলো আজও সংরক্ষিত। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা বাগানের মধ্যে দিয়ে চলে গিয়েছে সর্পিল পথ। কুয়াশা যখন সেই সবুজকে ছুঁয়ে যায়, মনে হয় আপনি কোনও স্বপ্নপুরীতে আছেন।

ছবি: সংগৃহীত

৩. জোরহাট, অসম: অসমের জোরহাটকে বলা হয় ‘বিশ্বের চা রাজধানী’। ব্রহ্মপুত্রের উপত্যকায় এই চা বাগানগুলোর চেহারা পাহাড়ের চেয়ে আলাদা। এখানে দিগন্তবিস্তৃত সমতলে চা গাছ। জোরহাটের মূল আকর্ষণ হল এখানকার ব্রিটিশ আমলের ‘টি বাংলো’গুলো। বিশাল বারান্দা আর কাঠের আসবাবে ঘেরা এই বাংলোয় রাত কাটানো এক রাজকীয় অভিজ্ঞতা। এছাড়া টোকলাই চা গবেষণা কেন্দ্রটি চা-প্রেমীদের কাছে এক তীর্থস্থান। এখানকার কড়া লিকারের চা সারা বিশ্বের সকালের ক্লান্তি দূর করে।

ছবি: সংগৃহীত

৪. কুন্নুর, তামিলনাড়ু: নীলগিরি পাহাড়ের কোলে শান্ত, স্নিগ্ধ এক জনপদ কুন্নুর। এখানকার চায়ের রং কিছুটা গাঢ় এবং স্বাদ বেশ কড়া। নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়েতে চড়ে চা বাগানের মাঝখান দিয়ে যাত্রা করাটা জীবনের এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। কুন্নুরের হাইফিল্ড টি ফ্যাক্টরি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়, যেখানে আপনি নিজের চোখে চা তৈরির প্রতিটি ধাপ দেখতে পাবেন।

ছবি: সংগৃহীত

৫. পালমপুর, হিমাচল প্রদেশ: উত্তর ভারতের এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটি ‘উত্তর ভারতের চা রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। ধৌলাধর পর্বতশ্রেণির বরফে ঢাকা শৃঙ্গগুলো যখন চা বাগানের আড়ালে উঁকি দেয়, সেই দৃশ্য ভোলার নয়। এখানকার চা বাগানে পাইন আর দেওদার গাছের আধিক্য এক অন্যরকম সতেজতা এনে দেয়। পালমপুর টি কো-অপারেটিভ বা বুন্দলা চা বাগান ঘুরে দেখলে পাহাড় আর সবুজের এক অদ্ভুত মিতালি চোখে পড়বে।

ছবি: সংগৃহীত

৬. ওয়ানাড, কেরল: ওয়ানাড মানেই ঘন জঙ্গল আর জলপ্রপাত। কিন্তু এখানকার চা বাগানগুলো এক আলাদা প্রশান্তি দেয়। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ঢালে অবস্থিত এই বাগানগুলো বন্যপ্রাণের খুব কাছাকাছি। অনেক সময় চা বাগানের পাশ দিয়েই হাতি বা হরিণের দেখা মেলে। নিরিবিলি পাহাড় যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য ওয়ানাডের চা বাগানগুলো আদর্শ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement