৩৪ বছর দাপটের সঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। সেখানে সরকারে কার্যত মুখ্য ভূমিকায় ছিল সিপিএম। ২০১১ সালে ক্ষমতা যাওয়ার পরে যেন শুরু হয় রক্তক্ষরণ! লোকসভা, বিধানসভা থেকে একাধিক নির্বাচনে ক্রমাগত হার। এর মধ্যে হুগলি নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে জল। সিপিএমে বৃদ্ধতন্ত্র নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। নতুন মুখ হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতারা ভোটে লড়লেও জেতার মুখ দেখেননি। এখনও শূন্যের গেরোয় থেকে বেরোতে পারেনি আলিমুদ্দিন।
ক্ষমতায় থাকার সময় বামফ্রন্টের অন্যতম মুখ, বড় শরিক দল ছিল সিপিএম। সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো শরিকদের কথা তেমনভাবে শোনা হত না বলেও অভিযোগ ছিল। প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রেও সিপিএম শরিকদের তেমন গুরুত্ব দিত না বলে অন্দরেই ক্ষোভ ছিল! মীনাক্ষীরা এলেও ভোটের ময়দানে তেমনভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। এদিকে তরুণ তুর্কি প্রতীক উর রহমান দলত্যাগ করে শাসক দলে যোগ দিয়েছেন। সিপিএমের একাধিক তরুণ তুর্কির দলবদলের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছিল রাজনীতির অন্দরে। একাধিক চাপেই কি এবার সিপিএম নিজের 'বড়দা' ইমেজ থেকে সরে দাঁড়াল? এবারের নির্বাচনের আসন সমঝোতা ও প্রার্থী নির্বাচনেও সিপিএম কি শরিকদের গুরুত্ব দিল? সেই প্রশ্ন রাজনীতির অন্দরেই উঠল।
ক্ষমতায় থাকার সময় বামফ্রন্টের অন্যতম মুখ, বড় শরিক দল ছিল সিপিএম। সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো শরিকদের কথা তেমনভাবে শোনা হত না বলেও অভিযোগ ছিল। প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রেও সিপিএম শরিকদের তেমন গুরুত্ব দিত না বলে অন্দরেই ক্ষোভ ছিল!
এদিন রাজ্য বামফ্রন্ট প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা (Left Front Candidate List) প্রকাশ করেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক সম্মেলন করে ১৯২ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছেন। এদিন সঙ্গে ছিলেন বামেদের শরিক দলের নেতৃত্ব। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় দেখা গেল শরিক দলদের গুরুত্ব দিল সিপিএম। উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিমের রাঢ় বাংলা, আসন সমঝোতায় শরিকদের প্রাধান্য দিয়েছেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরা। গত লোকসভা নির্বাচন-সহ অতীতের বহু ভোটে বামেদের আসন সমঝোতা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিত। শরিকদের দাবিকে তেমন গুরত্ব দিত না আলিমুদ্দিন, সেই অভিযোগও উঠেছিল। কিন্তু এবার যেন অন্য ছবি।
বিমান বসু নিজেই এদিন জানিয়েছেন, শরিকদের সঙ্গে এবার আসন সমঝোতা নিয়ে সিপিএম নেতাদের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে।
বিমান বসু নিজেই এদিন জানিয়েছেন, শরিকদের সঙ্গে এবার আসন সমঝোতা নিয়ে সিপিএম নেতাদের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে। এবার ততধিক বৈঠকের কথাও শোনা যায়নি বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। উত্তরবঙ্গের আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে অতীতে সিপিএম জোরালো দাবি জানাত। এবার দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ আসনই সিপিএম শরিকদের ছেড়েছে। পুরলিয়ার বাঘমুণ্ডি আসন নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকের টানাপোড়েনও হয়েছিল। নজিরবিহীনভাবে সিপিএমের সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকও প্রার্থী দিয়েছিল। লালমাটিতেও এবার সিপিএম শরিকদের গুরুত্ব দিয়েছে বলেই মত। তাহলে কি এবার একপ্রকার কোণঠাসা হয়েই সিপিএম শরিকদের গুরুত্ব দিল? প্রার্থী তালিকায় 'সমঝোতা'র পথেই হাঁটল আলিমুদ্দিন! সেই প্রশ্নই ঘুরছে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরে।
