তটরেখা ছাপিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি। তার নিচেই লুকিয়ে আছে এক অন্য জগৎ। রঙিন প্রবাল প্রাচীর, নাম না জানা মাছের ঝাঁক আর প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ। ডাঙার পৃথিবী থেকে সমুদ্রের তলার এই পৃথিবীটা একেবারে আলাদা। প্রথমবার স্কুবা ডাইভিং করতে যাওয়া অনেকের কাছেই আজীবনের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু জলের নিচে রোমাঞ্চ যতটা, চ্যালেঞ্জও ঠিক ততটাই। তাই প্রথমবার যারা সমুদ্রের গভীরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য রইল জরুরি কিছু টিপস।
পেশাদার ডাইভিং ইনস্ট্রাক্টরের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক
১. প্রশিক্ষণই শেষ কথা: পেশাদার ডাইভিং ইনস্ট্রাক্টরের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সমুদ্রের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা থেকে শুরু করে জলের চাপে টিকে থাকার কৌশল— সবই শিখতে হবে মন দিয়ে। প্রশিক্ষণ ছাড়া জলে নামা কেবল বোকামি নয়, বিপজ্জনকও বটে।
২. যন্ত্রপাতিতে বিশেষ নজর: ডাইভিং মাস্ক থেকে শুরু করে ওয়েটসুট, অক্সিজেন ট্যাঙ্ক থেকে ফিনস— প্রতিটি সরঞ্জাম নিজের হাতে পরীক্ষা করে নিন। সামান্য খুঁতও জলের নিচে বড় বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। শ্বাস নেওয়ার রেগুলেটরটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা বারবার দেখে নিন।
শ্বাস নেওয়ার রেগুলেটরটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা বারবার দেখে নিন
৩. নিশ্বাস চলুক অবিরাম: জলের নিচে ভুলেও দম বন্ধ করবেন না। এতে ফুসফুসে চোট লাগার সম্ভাবনা থাকে। ধীরলয়ে নিয়মিত শ্বাস নিন। প্রশিক্ষণের সময় শেখানো শ্বাসক্রিয়ার নিয়মগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন।
৪. শান্ত থাকুন, স্থির হোন: সমুদ্রের নিচে হড়বড়ানি চলে না। যত বেশি উত্তেজিত হবেন, তত দ্রুত শরীরের অক্সিজেন ফুরিয়ে আসবে। নিজেকে শান্ত রাখুন। ধীর গতিতে সাঁতার কাটুন। এতে সমুদ্রের রূপ আস্বাদন করার সময়ও মিলবে বেশি।
সবসময় একজন সঙ্গীকে পাশে রাখুন
৫. পাশে থাকুক সঙ্গী: স্কুবা ডাইভিং কখনোই একা করা উচিত নয়। সবসময় একজন সঙ্গীকে পাশে রাখুন। কোনও সমস্যায় পড়লে বা ইশারায় কথা বলার জন্য একজন সঙ্গীর গুরুত্ব অপরিসীম।
৬. প্রকৃতিকে সম্মান দিন: সমুদ্রের প্রাণীরা আপনার মেহমান নয়, আপনিই তাদের অতিথি। তাই প্রবাল ছোঁয়া বা মাছদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য ভুলে নষ্ট হতে পারে নীল জলের ভারসাম্য।
সতর্কতা মেনেই শুরু হোক নীল দুনিয়ার খোঁজে আপনার প্রথম যাত্রা।
