আকাশ জুড়ে মন কেমন কালো মেঘ। জানলার বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। হাতের মুঠোয় গরম চায়ের কাপ। আধ পড়া বইয়ের পাতায় চোখ। মাঝেমধ্যে বর্ষা উপভোগ। চোখ চলে যাচ্ছে জানলার কাচের বাইরে। ভাবুন তো একবার! এই বর্ষাযাপন যদি কোনও দূর সফরের ট্রেনে বসে হয়? চলন্ত ট্রেনের কাচ দিয়ে যদি দেখা যায় বর্ষার ঝমঝম কাব্যগাথা? না, নিছক কোনও কল্পনা নয়। এমনটাও সম্ভব। গতি ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে আপনাকে বর্ষা উদযাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেস (Vande Bharat Express)। চওড়া জানলা আর আরামদায়ক সফর। সঙ্গে জানলার বাইরে ইলশেগুঁড়ি। ভারতের এই ৭টি বন্দে ভারত রুট বর্ষায় আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে রূপকথার মতো।
ছবি: সংগৃহীত
১. মুম্বই থেকে গোয়া (সিএসএমটি - মাডগাঁও)
কোঙ্কন রেলপথের এই সফর বর্ষায় এক জাদুকরি রূপ নেয়। পশ্চিমঘাট পর্বতের বুক চিরে যখন ট্রেন ছোটে, চারপাশ ঢেকে থাকে ঘন সবুজে। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলপ্রপাত। কুয়াশাচ্ছন্ন টানেল আর নদীর ওপর দিয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চই আলাদা। মাঝেমধ্যে উঁকি দেয় আরব সাগরও।
২. কাটরা থেকে শ্রীনগর
পীর পঞ্জাল রেঞ্জের বুক চিরে এই যাত্রা এক অদ্ভুত বিস্ময়। বর্ষার মেঘ যখন পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকে, তখন দৃশ্যপট অনন্য দেখায়। বিখ্যাত চিনাব ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হবে মেঘের ওপর দিয়ে যাত্রা করছেন। কাশ্মীরের উপত্যকা এই সময় আরও সবুজ, আরও জীবন্ত।
৩. নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গুয়াহাটি
উত্তর-পূর্ব ভারতের শান্ত ও স্নিগ্ধ সৌন্দর্য ধরা পড়ে এই রুটে। ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখা যায় মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চায়ের বাগান। বৃষ্টির জলে ধোয়া বনাঞ্চল আর কানায় কানায় পূর্ণ নদীগুলো এই সফরের মূল আকর্ষণ।
৪. দিল্লি থেকে দেরাদুন
সমতল থেকে পাহাড়ের কোলে প্রবেশের এক অদ্ভুত রূপান্তর এই জার্নি। উত্তরপ্রদেশের ফসলের খেত পেরিয়ে ট্রেন যখন উত্তরাখণ্ডে ঢোকে, তখন শিবালিক পাহাড়ের সবুজ চাদর চোখ জুড়িয়ে দেয়। বৃষ্টির জলে ভেজা ফসলের অপরূপ রূপ চোখের কোণে থেকে যায় সারা জীবন।
ছবি: সংগৃহীত
৫. তিরুবনন্তপুরম থেকে কাসারগড়
কেরলের বর্ষা মানেই এক অবিরাম জলছবি। নারকেল গাছের সারি, জলমগ্ন ধানখেত আর ব্যাকওয়াটারের ওপর বৃষ্টির ফোঁটা—সব মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য। পুরো রাজ্যটাই যেন এই সময় সবুজ ক্যানভাস। বর্ষাপ্রেমীরা এমন সফর মিস করবেন না যেন!
৬. মুম্বই থেকে কোলহাপুর
এই রুটটি পশ্চিমঘাটের এক অন্য রূপ দেখায়। পাহাড়ি উপত্যকা, মেঘে ঢাকা মালভূমি আর পাহাড়ি টানেল পার হওয়ার অভিজ্ঞতা এই বর্ষায় কিছুতেই মিস করা যাবে না।
৭. চেন্নাই থেকে কোয়েম্বাটুর
শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে ট্রেন যত এগোয়, চারপাশ তত শান্ত হতে থাকে। কোয়েম্বাটুরের কাছাকাছি পৌঁছোতেই দূরের পাহাড় আর বৃষ্টি-ধোয়া গ্রামীণ প্রকৃতি মন ভালো করে দেয়।
