shono
Advertisement
Kunal Ghosh

ঋতব্রত-শিবিরের স্বাধীনতা উদযাপনে হঠাৎ হাজির কুণাল! তারপর...

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তৃতা চলাকালীনই কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়ি।
Published By: Arpita MondalPosted: 12:48 PM Aug 15, 2026Updated: 01:30 PM Aug 15, 2026

স্বাধীনতা দিবসে বেনজির মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তৃণমূল কংগ্রেসের মেট্রোপলিটন কার্যালয়। যে অফিস বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরের দখলে। এদিন তাঁদের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে হঠাৎ হাজির হলেন কালীঘাট পন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তৃতা চলাকালীনই কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়ি। সটান গাড়ি থেকে নেমে গটগটিয়ে তিনি ঢুকে যান পার্টি অফিসে। তাঁকে দেখে খানিকটা ভ্যাবাচাকা পরিস্থিতিতে পড়েন বইকি অরূপ-চন্দ্রিমারা। তবে কুণালের 'সারপ্রাইজ ভিজেটে' অনুষ্ঠানে এক মুহূর্তের জন্য ব্যাঘাত ঘটেনি। বরং ঋতব্রত শিবিরের স্বাধীনতার উদযাপনে মিশে গিয়ে শহিদ বেদিতে পুষ্প অর্পন করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সতীর্থদের প্রস্তাবে কয়েকমিনিটের বক্তৃতাও দেন। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলনেতা। জানা গিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তখন রেড রোডের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

Advertisement

বলে রাখা ভালো, ঋতশিবিরের দখলে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয়টি কুণাল ঘোষের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ ওই এলাকার বিধায়ক হিসেবে তিনি যে সৌজন্যের নজির দেখিয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, "তপসিয়ার পুরোনো ভবনেও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে, পতাকা তোলা হয়েছে। ওখানে দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, ছাত্র যুবরা ছিলেন। সেখান থেকেই ফিরছিলাম। এই কার্যালয়ের সামনে দিয়েই ফেরার রাস্তা। দেখলাম পতাকা তোলা হচ্ছে, নেমে পড়লাম। আমাদের দলেরই তো অফিস, অসুবিধা কী?"

তাপসিয়ার পুরোনো তৃণমূল ভবনে পতাকা উত্তোলন করেন কুণাল ঘোষ।

তিন মাস আগেও তো একই পরিচয়ে রাজনীতির ময়দানে লড়াই, বর্তমানে শাসকশিবিরের সঙ্গে বিরোধিতায় তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বৈরথ দেখতে অভ্যস্থ বঙ্গবাসী। সেই আবহে চন্দ্রিমাদের স্বাধীনতা উদযাপনে কুণাল 'সারপ্রাইজ-ভিজিট'কে চন্দ্রিমা-অরূপ রায়রা কেমনভাবে নিলেন? ঋত-শিবিরের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, "শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যে কেউ আসতে পারে। পথচলতি যে কোনও মানুষই আসতে পারেন। উনি এই এলাকার বিধায়ক, শুনলাম বলেছেন এখান থেকে যাচ্ছিলেন পতাকা তোলা হচ্ছে দেখে নেমে পড়েছেন। এসেছেন, ভালো। এটাই তো গণতন্ত্র যে, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের এখানে (ঋতব্রত শিবিরে) সকলেই এসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারেন। উনিও তেমনই এসেছেন।" 

মেট্রোপলিটনের তৃণমূল অফিসে শহিদ বেদিতে পুষ্প অর্পন কুণালের।

উল্লেখ্য, এদিন কুণাল ঘোষের বক্তব্যের সিংহভাগজুড়েই ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। সামনে দাঁড়িয়ে ঋতপন্থী নেতা-নেত্রীরাও তা মন দিয়ে শুনেওছেন। নেতাজির অপমানে অনন্ত মহারাজের গ্রেপ্তারির দাবিও তোলেন এদিন কুণাল। প্রসঙ্গত, একুশে জুলাই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের প্রতিযোগিতা দেখেছে কলকাতা। আগামী ২৮ আগস্ট যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন নিয়েও সামনে আসতে পারে ঋতব্রত দল বনাম মমতাপন্থীদের দ্বৈরথ। বর্তমানে দুই শিবিরের মধ্যে জারি প্রতীক-যুদ্ধও। এই আবহে স্বাধীনতা দিবস অন্তত দুই শিবিরকে এক উঠোনে তো আনতে পারল! ব্যঙ্গ করে হলেও সমালোচনা করতে ছাড়েননি বিরোধীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement