ক্যালেন্ডারের পাতায় লম্বা ছুটির লাল দাগ! জানুয়ারির ২৩ আর ২৬-এর মাঝে শনি-রবিবার। এই চার দিনের ছুটিতে দিঘা-পুরী বা চেনা পাহাড়ের ভিড়ে না গিয়ে এবার গন্তব্য হোক ঝাড়খণ্ডের আসানবনি। ঠিক যেন ক্যানভাসে আঁকা এক জনপদ। যেখানে আকাশ ছোঁওয়া দলমার সবুজ পাহাড়। আর ধুলো ওড়ানো রাঙামাটির পথ।
কলকাতা থেকে মাত্র ২৪০ কিলোমিটার। অথচ কোলাহলহীন। এনএইচ-১৬ এবং ১৮ ধরে যখন গাড়ি ছোটাবেন, জানলার বাইরে দৃশ্যপট বদলাবে দ্রুত। সর্পিল পাহাড়িকা পথ আর দিগন্ত বিস্তৃত শাল-পিয়ালের বন আপনাকে স্বাগত জানাবে। দলমা পাহাড়ের ঠিক পাদদেশেই আসানবনি। জ্যামিতিক নকশার মতো সাজানো আদিবাসী গ্রাম আর পাহাড়ি ঝোরার কলতান— এই নিয়েই আসানবনি।
প্রথম দিনটা তোলা থাক রোমাঞ্চের জন্য। মাত্র ১০ কিমি দূরেই দলমা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯১৫ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চড়াই-উতরাই বেয়ে জঙ্গল সাফারি। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে বুনো হাতি, হরিণ কিংবা স্লথ বিয়ারের। পাখির কলকাকলিতে সেখানে সময় থমকে যায়। দলমা পাহাড় থেকে নামার পথেই দেখে নিন শান্ত ডিমনা লেক। শীতের রোদে লেকের টলটলে নীল জলে পরিযায়ী পাখিদের মেলা দেখার মতো।
আধ্যাত্মিক টানে ঘুরে নিতে পারেন সাইবাবার মন্দির এবং নিকটবর্তী প্রাচীন জয়দা মন্দির। তবে আসানবনি ভ্রমণের আসল স্বাদ লুকিয়ে আছে চান্ডিল বাঁধে। সুবর্ণরেখা নদীর ওপর এই বিশাল জলাধারে নৌকাবিহার অনেকটা স্বপ্নের মতো। বিকেলের কনে দেখা আলোয় যখন বাঁধের জলে সূর্যাস্ত হয়, সেই দৃশ্যের মোহিনী মায়া কাটানো কঠিন। কাছেই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত দু'শো বছরের পুরনো পাথরের লিপি ইতিহাসের ছোঁয়া দেবে।
কলকাতা থেকে টাটানগরগামী ট্রেনে চেপে মাত্র চার ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় টাটা। সেখান থেকে আধা ঘণ্টার গাড়িপথ। থাকার জন্য রয়েছে পাহাড়ের গায়ে সুন্দর রিসর্ট। বাজেট আর বিলাসিতা— দুয়ের মেলবন্ধনে আসানবনি আক্ষরিক অর্থেই পকেট ফ্রেন্ডলি। এই শীতে কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে দু’দিন শান্তির খোঁজে হারিয়ে যাওয়ার সেরা ঠিকানা আসানবনি।
এক নজরে জরুরি তথ্য:
সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ।
যাতায়াত: হাওড়া থেকে ট্রেন বা কলকাতা থেকে সড়কপথে বাস/গাড়ি।
বিশেষ আকর্ষণ: দলমা সাফারি, চান্ডিল ড্যাম এবং আদিবাসী গ্রাম।
