বসন্ত বিদায় নিতেই চড়ছে পারদ। ক্যালেন্ডার বলছে মার্চ শেষ হতে আর একদিন। দোরগোড়ায় এপ্রিলের কাঠফাটা রোদ। এই অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই পাহাড় বা অপেক্ষাকৃত শীতল জায়গায় ভ্রমণের ছক কষছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, গরমের সফর যতটা রোমাঞ্চকর, ঠিক ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতায় মাঝপথেই পণ্ড হতে পারে ঘোরার আনন্দ। বিশেষ করে হিট স্ট্রোক, জলশূন্যতা বা পেটের গোলমাল এই সময় পর্যটকদের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্যাগ গোছানোর আগে জেনে নিন কিছু জরুরি পরামর্শ (Summer Travel Tips)।
প্রতীকী ছবি
গরমের ভ্রমণে অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। শরীরে জলের মাত্রা কমে গেলে মাথা ঘোরা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তাই সবসময় সাথে পরিষ্কার পানীয় জল রাখুন। রাস্তার ধারের খোলা কাটা ফল বা জল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। চেষ্টা করুন ডাবের জল, ওআরএস বা লেবুর জল সঙ্গে রাখতে। দীর্ঘক্ষণ রোদে হাঁটলে অল্প অল্প করে জল বিরতি নিন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে। ক্লান্তিও কম হয়।
ভ্রমণের সময় ফ্যাশনের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিন। হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক এই সময়ের জন্য আদর্শ। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক তাপ শোষণ করে, তাই তা এড়িয়ে চলাই ভালো। রোদের হাত থেকে চোখ ও মাথা বাঁচাতে ভালো মানের সানগ্লাস এবং চওড়া টুপির বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পাহাড়ি এলাকায় অনেক সময় রোদের তীব্রতা বোঝা যায় না, অথচ ত্বক পুড়ে যায়। তাই চর্মরোগ বা র্যাশের হাত থেকে বাঁচতে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম সঙ্গে রাখুন।
প্রতীকী ছবি
সফরের সময় মন চাইলেও কন্টিনেন্টাল বা গুরুপাক খাবার থেকে দূরে থাকুন। গরমে হজমের সমস্যা খুব সাধারণ। যতটা সম্ভব হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খান। শসা, আঙুর বা কমলালেবু সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে। বাইরের তেল-মশলাযুক্ত খাবারের বদলে শুকনো খাবার বা ঘরোয়া রুটি-তরকারি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
শারীরিক অস্বস্তি যে কোনও সময় হতে পারে। তাই ছোট একটি ওষুধের বক্স তৈরি করে নিন। জ্বর, পেটের সমস্যা, বমি বা ব্যথানাশক কিছু সাধারণ ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঙ্গে রাখুন। হঠাৎ চোটের জন্য ব্যান্ডেজ বা ব্যথানাশক মলম রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে সুস্থ শরীরে ফিরে আসা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সচেতন থাকুন। সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরুন।
