চেন্নাই সুপার কিংস: ১২৭/১০ (জেমি ৪৩, কার্তিক শর্মা ১৮, আর্চার ১৯/২, বার্গার ২৬/২)
রাজস্থান রয়্যালস: ১২৮/২ (বৈভব ৫২, যশস্বী ৩৮, অনশুল ২৭/২)
রাজস্থান ৮ উইকেটে জয়ী
এখনও বিশ্বকাপের গন্ধ লেগে আছে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে। টি২০ বিশ্বকাপের সেই ম্যান অফ দ্য সিরিজ খেলোয়াড় এখন চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরে। এইসঙ্গে দলে প্রতিভাবান তরুণ মুখের ভিড়। সকলের মাথার উপরে কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি তো আছেনই। (যদিও এই ম্য়াচে চোটের জন্য খেলেননি তিনি)। এর পরও রাজস্থান রয়্যালসের কাছে বিরাট হার! ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফ্য়াকাসে হলুদ জার্সি। স্কোরবোর্ডে রান উঠল মাত্র ১২৭। ১২.১ ওভারে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেল বৈভব সূর্যবংশীদের দল। ৮ উইকেটে চেন্নাইকে হারাল রাজস্থান। বড়দের পিছনে ফেলে ১৭ বলে ৫২ রান করে ম্যাচের সেরা হল ১৫ বছরের কিশোর বৈভবই।
গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে নজরে ছিল ঘরের ছেলে বনাম ঘরের ছেলের লড়াই। চেন্নাই যেমন ছিনিয়ে এনেছে সঞ্জুকে। তেমনই সিএসকে থেকে ঘরওয়াপসি হয়েছে রবীন্দ্র জাদেজার। শুরুতেই জাড্ডু হিট। ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। ফেরান সরফরাজ খান (১৭) ও শিবম দুবেকে। বিশ্বকাপের সেরা প্লেয়ার সঞ্জু পুরনো দলের বিরুদ্ধে রান পেলেন না। ৬ রানের মাথায় নান্দ্রে বার্গারের বিষাক্ত সুইং উইকেট ভেঙে দিল। অধিনায়ক রুতুরাজ আবার জোফ্রা আর্চারের শিকার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী আয়ুষ মাত্রে রানের খাতাই খুলতে পারলেন না। ১৪.২০ কোটি দিয়ে কেনা তরুণ তুর্কি কার্তিক শর্মা কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিক উইকেট পতনের জেরে তিনিও টাল সামলাতে পারেননি। ব্রিজেশ শর্মার বলে ১৮ রানে এলবিডব্লু হন। সিএসকে’র রান ৫০ পেরোতেই অর্ধেক দল ড্রেসিংরুমে। তাও যে রানটা ১২৭-এ পৌঁছল, সেটা জেমি ওভার্টন ৪৩ রান করে যান বলে। ব্যাটিং লাইন আপে ধোনির অভাব কিন্তু বারবার চোখে পড়ল।
কোন কোনও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, প্রথমবার আইপিএলে বৈভব যতটা চমকে দিয়েছিল, এবারে পারবে না। যেহেতু শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী গেমপ্ল্য়ান করবে বিপক্ষ দলগুলি। কিন্ত কোথায় কী! বিস্ময় কিশোর এদিনও বড় শটের বন্য়া বইয়ে দিলেন। পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি ও চারটি বাউন্ডারির দৌলতে ১৭ বলে ৫২ রান করে দলকে পৌঁছে দিলেন জয়ের দোড়গড়ায়। বাকি কাজটা করলেন দ্বিতীয় অপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। ৩৮ রানের জরুরি ইনিংস খেললেন তিনি। রাজস্থানের মেরুদণ্ড হয়ে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন যশস্বী। এক অনশুল কাম্বোজ ছাড়া চেন্নাইয়ের কোনও বোলারকেই পাত্তা দিল না রিয়ান পরাগের দলের ব্যাটাররা। ফলে ১২ ওভার ১ বলেই খেল খতম! এমন বিশ্রি হারের পর ভাবতেই চেন্নাইকে, কীভাবে দূরপাল্লার আইপিএলে এক্সপ্রেস খেতাব বজায় রাখা যায়। সেক্ষেত্রে 'ভাঙা' ব্যািটং ও বোলিং মেরামত খুব দরকারি।
