পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে 'গ্রাউন্ড ফ্রস্ট'। শীতের রাতে পড়া শিশিরই ভোরের দিকে জমে হচ্ছে বরফ! শুক্রবার ভোরেও সেখানকার একটি বেসরকারি পর্যটন প্রকল্পের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির উপর দেখা যায় তুষার জমে রয়েছে। মুহূর্তে ভাইরাল সেই ছবি। তা নিয়ে প্রবল হইচই। 'ওড়িশার কাশ্মীর' হিসেবে পরিচিত দাড়িংবাড়ির সঙ্গে পুরুলিয়ার তুলনা করছেন অনেকে। তবে প্রকৃতির এই খেলায় পুরুলিয়ার প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে বলেই আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।
পুরুলিয়ায় গ্রাউন্ট ফ্রস্ট। ছবি: সুমিত বিশ্বাস
দিন কয়েক আগেই প্রথম সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ঘাস, গাড়ির ছাদের জমাট বাধা বরফের ছবি। এদৃশ্য দেখেই ব্যাগ গুছিয়ে পুরুলিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন পর্যটকরা। জানুয়ারিতেও অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটক আবাসগুলির বুকিংয়ের চাপে মুখে হাসি ব্যবসায়ীদের। এলাকার একটি বেসরকারি পর্যটন প্রকল্পের কর্ণধার, হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা অমিত পাল বলেন, "গত মাসে অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর এই ছবি সীতাকুণ্ড এলাকায় আমরা প্রথম দেখেছিলাম। নতুন বছরে তো চলছেই। পর্যটকরাও ভীষণ আনন্দ করছেন। আবার শুক্রবার সেই ছবি আমাদের ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। পুরুলিয়ার পর্যটন মানচিত্রে এই তুষার জমা এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।"
পুরুলিয়ায় গ্রাউন্ট ফ্রস্ট। ছবি: সুমিত বিশ্বাস
পশ্চিমাঞ্চল পুরুলিয়ায় ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবল শীতের সতর্কতা ছিলই। শুক্রবার পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন ছিল ৫.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সমুদ্রতল থেকে অযোধ্যা পাহাড় প্রায় ২২০০ ফুট উঁচু হওয়ায় পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যা থাকে তা থেকে কমপক্ষে এক-দু'ডিগ্রি নেমে যায়। আর অযোধ্যা হিলটপের এই সীতাকুণ্ড এলাকায় জেলার সর্বনিম্ন থেকে দু'-তিন ডিগ্রি কম থাকে। তাই সকালবেলায় গ্রীষ্মকালেও এই বিস্তীর্ণ এলাকা মনোরম থাকে। এখানে পাথর দিয়ে বাঁধানো ঠান্ডা জলের এক প্রস্রবণ রয়েছে। মাটির নিচ থেকে অনবরত স্বচ্ছ পরিষ্কার শীতল জল বেরিয়ে আসে। সেই কারণেই এই এলাকায় ভরা শীতে পারদ বেশ নিচে থাকে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের আওতায় থাকা সামগ্রিক অঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ এই সীতাকুণ্ডকে নিজেদের পর্যটন প্রচারপত্রে 'অটোফ্লো স্পেশালি ফর স্টুডেন্টস অফ এনথ্রপোলজি' বলে চিহ্নিত করেছে।
