shono
Advertisement
Dhanvantari koop

কাশী ভ্রমণে দেখে আসা যায় ধন্বন্তরি কূপ, জল ছুঁলেই সারবে রোগ! বিশ্বাস স্থানীয়দের

কেবল পবিত্র গঙ্গা নয়, এই শহর মন্দিরেরও। প্রত্যেক গলির মুখেই দেখা যায় ছোট ছোট মন্দির। প্রতিটিতেই নানাবিধ দেবতার অবস্থান। এমন সব মন্দিরের ভিড়েই রয়েছে মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব মন্দিরও, যার পরিধির মধ্যেই ধন্বন্তরি কূপের অবস্থান।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 10:00 AM Jun 14, 2026Updated: 10:00 AM Jun 14, 2026

ভারতের প্রাচীন শহরগুলির অন্যতম কাশী। পবিত্র মনে করা হয় এই শহরকে। জীবনের শেষ দিনগুলি জরাজীর্ণ অবস্থায় তাই কাশীতেই কাটাতে চান বহু মানুষ। এই শহরের আঁকাবাঁকা গলি, একের পর এক চেনা-অজানা ঘাটের মাঝে মানুষ বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে। গঙ্গাঘেঁষা এই শহর বহুবার স্থান পেয়েছে গল্প কবিতা সিনেমায়।

Advertisement

কাশীর ঘাট ও মন্দির।

কাশী অর্থাৎ বারাণসী ঘিরে বছরভর পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। পাহাড়-সমুদ্র-জঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা করে মানুষ, কাশির ক্ষেত্রে সে বালাই নেই। ঈশ্বরের সংস্পর্শে জীবনের রূপ বদলাতে, বাঁচার নতুন অর্থ খুঁজে পেতে দলে দলে মানুষ এই শহরে এসে হাজির হয়।

এই শহরেই রয়েছে এক আশ্চর্য কুয়ো, নাম পোশাকি নাম ধন্বন্তরি কূপ (Dhanvantari koop)। স্থানীয় মানুষদের নানা ধরনের অদ্ভুত বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এই কুয়ো। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই কুয়ো থেকে তোলা জল শরীরে ছোঁয়ানো গেলে সেরে যায় যাবতীয় রোগ-ব্যধি। এমনকী গুরুতর রোগ, যা কোনও ডাক্তার-বদ্যি সারাতে পারে না, তা পারে ধন্বন্তরি কূপের জল। যদিও বাস্তবে কি আর এমনটা হতে পারে? এ ঘটনা যে সত্যি, তার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা পাওয়া যায়নি কখনও।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের জনক ছিলেন ধন্বন্তরি। তাঁর চিকিৎসা বিদ্যা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীকালে বহু রোগ নিরাময় সম্ভব হয়েছে। যে কুয়োর কেবল জল ছোঁয়ালেই কঠিন অসুখ সারে, তার নামের সঙ্গে যে এই নাম জড়িয়ে যাবে, তাতে আর আশ্চর্য কি? কথিত রয়েছে, সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা অমৃতের ভাণ্ড অসুরদের থেকে লুকিয়ে নিয়ে যখন পলায়ন করছিলেন ধন্বন্তরি, তখন তা থেকে চার ফোঁটা পড়ে চারটি শহরে। সেই শহর চারটি নিয়েই আয়োজিত হয় মহাকুম্ভ। সে সময়েই এক ফোঁটা পড়ে এই কূপেও, যা থেকে কূপের এমন আশ্চর্য ক্ষমতা।

ধন্বন্তরি কূপ।

কেবল পবিত্র গঙ্গা নয়, এই শহর মন্দিরেরও। প্রত্যেক গলির মুখেই দেখা যায় ছোট ছোট মন্দির। প্রতিটিতেই নানাবিধ দেবতার অবস্থান। এমন সব মন্দিরের ভিড়েই রয়েছে মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব মন্দিরও, যার পরিধির মধ্যেই ধন্বন্তরি কূপের অবস্থান। এই কুয়ো ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিশ্বাস নেহাত নতুন নয়। মনে করা হয়, একশো বছরের উপর এমন এই কুয়ো ঘিরে জরাগ্রস্ত মানুষদের সমাগম ঘটে। রোগের পাশাপাশি অশুভ শক্তির প্রভাবকেও মুছে ফেলতে পারে কুয়োর জল। অর্থাৎ, যদি এমন কোনও মানুষ এখানে আসে, যার শারীরিক অসুখের আসল কারণ কোনও রোগ নয়, বরং অশুভ শক্তি, তবে তাও মুছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ধন্বন্তরি কূপের জল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement