সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে নামছে রুপোলি ঝরনা। চার পাশে ঘন জঙ্গল। তারই মাঝে পাথরের গায়ে খোদাই করা এক আশ্চর্য মায়ালোক। মেঘ-পাহাড়ের দেশ ত্রিপুরায় সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক প্রাচীন শৈবতীর্থ। নাম উনকোটি। সপ্তম শতকের এই পুণ্যভূমি নাকি কেদারনাথের চেয়েও প্রাচীন! লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই স্থানের পরতে পরতে মহাকালের স্পর্শ। এখানে পাথর কথা বলে। জঙ্গল আর দেবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যান।
পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই ভাস্কর্যগুলি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। রক-কাট বা পাহাড় কেটে তৈরি মূর্তি। এবং পাথরের সাধারণ মূর্তি। এখানকার মূল আকর্ষণ হল শিবের বিশাল একটি মুখাবয়ব। যার নাম 'উনকোটিশ্বর কাল ভৈরব'। প্রায় ৩০ ফুট উঁচু এই মূর্তির জটাজালই ১০ ফুট লম্বা। এই জটার এক পাশে সিংহবাহিনী দুর্গা। অন্য পাশে আরও একটি নারীমূর্তি। ভারতের বৃহত্তম বাস-রিলিফ ভাস্কর্য বা খোদাই শিল্প দেখতে পাওয়া যায় এখানেই। মাটিতে আংশিক ডুবে থাকা তিনটি বিশাল নন্দী মূর্তিও পথিকের নজর কাড়বে। গণেশের বিশালাকার মূর্তির কারুকার্যও দেখার মতো।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে যাবেন?
প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এই তীর্থে পৌঁছনো খুব কঠিন নয়। বিমানে আসতে চাইলে নামতে হবে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে উনকোটি প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার। ট্রেনে আসতে চাইলে ধর্মনগর বা কুমারঘাট স্টেশনে নামা সুবিধাজনক। ধর্মনগর থেকে দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে ট্যাক্সি, অটো বা বাসে আধ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় ঈশ্বরের এই আলয়ে। সড়কপথে আগরতলা থেকে সময় লাগে চার ঘণ্টার মতো। কৈলাসহর থেকেও এটি মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে।
ছবি: সংগৃহীত
কখন যাবেন?
উনকোটি ঘোরার সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময়ে পাহাড়ের আবহাওয়া থাকে মনোরম। তবে উৎসবের আমেজ পেতে চাইলে অন্য সময়ও আসা যায়। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে এখানে বসে 'অশোক অষ্টমী মেলা'। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান মেলায়। জানুয়ারি মাসেও একটি ছোট উৎসব হয়। বলাই বাহুল্য সারাবছরই ভিড় জমান পর্যটকেরা।
