শ্রাবণ মানেই শিবের মাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেবাদিদেব শিবের অন্যতম মহিমাম্বিত ধাম কিন্নর কৈলাসের দরজা খুলছে ভক্তদের জন্য। দুর্গম পথ, হিমবাহ আর পাথরের প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে এ বার শিবদর্শনের সুযোগ পাবেন পুণ্যার্থীরা। আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ সালের কিন্নর কৈলাস যাত্রা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছুটা দেরিতে শুরু হওয়া এই তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে এখন সাজসাজ রব।
ছবি: সংগৃহীত
প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কথা মাথায় রেখে এ বছর যাত্রার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রুটে গ্লেসিয়ার ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে তা পিছিয়ে যায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই যাত্রা। তবে আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে যে কোনও সময় সুরক্ষার স্বার্থে স্থগিত করা হতে পারে ট্রেকিং।
ছবি: সংগৃহীত
নাম নথিভুক্ত করবেন কীভাবে?
তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবে প্রতিদিন মাত্র ৩৭৫ জন পুণ্যার্থীকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১৭৫ জন অনলাইনে (https://hpkinnaur.nic.in/) এবং ১২৫ জন অফলাইনে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। বাকি ৭৫টি আসন বরাদ্দ থাকছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর অপারেটরদের জন্য। ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে অনলাইন পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভক্তদের ৩০ জুলাই সকাল ৬টার মধ্যে তাংলিং গ্রামের রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে পৌঁছতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ট্রেকিংয়ের অনুমতি পেতে কী করবেন?
উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা এড়াতে মেডিকেল ফিটনেস শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিজের এলাকার নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে সংগৃহীত শংসাপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। তাছাড়া তাংলিং গ্রামের মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত চিকিৎসকদের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে তবেই ট্রেকিংয়ের অনুমতি মিলবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সম্পূর্ণ সতর্ক রাখা হয়েছে। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ— পুণ্যার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে সব রকম ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করেছে আয়োজক কমিটি। কঠিন পথ আর বিপজ্জনক রোমাঞ্চ জয় করে এবছরও হাজার হাজার মানুষ পঞ্চ কৈলাসের এই স্তম্ভ ছুঁতে মরিয়া।
