শ্রাবণ মাসের সোমবারে মহাদেবের আরাধনা হিন্দু ধর্মের চিরাচরিত প্রথা। দেবাদিদেব শিব যেমন অতি সহজেই আশুতোষ, তেমনই ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে ভক্তের জীবন থেকে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট হরণ করে নেন তিনি। পুরাণ ও শাস্ত্রে শ্রাবণ মাসের সোমবারের মহিমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পুণ্য তিথিতে শিবলিঙ্গে ভক্তিভরে অর্ঘ্য নিবেদন করলে জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতর সংকটও কেটে যায় বলে ভক্তের বিশ্বাস।
ফাইল ছবি
সোমবারেই শিবপুজো কেন?
শ্রাবণের সোমবার ব্রত পালন করে মহাদেবের জলাভিষেক, দুগ্ধাভিষেক এবং বেলপাতা অর্পণ করা অত্যন্ত কল্যাণকর। এই তিথিতে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপে মানসিক শান্তি মেলে এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। মূলত দাম্পত্য সুখ, সৌভাগ্য, স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সন্তানের মঙ্গল কামনায় ভক্তরা এই ব্রত পালন করেন। গোশালা, তীর্থক্ষেত্র বা শিবমন্দিরে পূজা করলে এই পুণ্যফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পুরাণ অনুযায়ী, শিবের কৃপায় কঠিন পরিস্থিতিও নিমেষে বদলে যায়। তাই শ্রাবণ মাস কেবল বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মহাদেবের চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের সময়। এই মাসে সাত্ত্বিক জীবনযাপনের পাশাপাশি রুদ্রাভিষেক করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কেন কালো তিল অর্পণ করবেন?
জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে শ্রাবণের সোমবারে শিবলিঙ্গে কালো তিল অর্পণ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের জন্মছকে শনি বা রাহুর অশুভ মহাদশা, অন্তর্দশা কিংবা প্রতিকূল গোচর চলছে, তাঁদের জন্য কালো তিল অর্পণ মহৌষধির মতো কাজ করে। এই বিশেষ অর্ঘ্য গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব দূর করে জীবনে ইতিবাচক শক্তি ফিরিয়ে আনে। নিয়মিত শিবপূজা, মন্ত্র জপ এবং শুভ গ্রহকে শক্তিশালী করতে উপযুক্ত রত্ন ধারণ করলে শুভ ফল দ্রুত মেলে।
