আকাশপথে প্রথমবার যাত্রা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। বিমানবন্দর মানেই এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ। কিন্তু এই উত্তেজনার মাঝে অনেক সময় বিপত্তি ঘটায় বিমানবন্দরের কঠিন কিছু পরিভাষা। প্রথমবার যারা বিমানে চড়ছেন, তাঁদের কাছে বিমানবন্দরের ভাষা অনেক সময় গোলকধাঁধার মতো মনে হতে পারে। ঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে এবং অহেতুক হয়রানি এড়াতে বিমানবন্দরের বিশেষ কিছু শব্দের অর্থ জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনার বিমানযাত্রাকে আরও সহজ করতে নিচের এই ছ'টি বিষয় মাথায় রাখুন।
ফাইল ছবি
আইএটিএ কোড: আপনার বোর্ডিং পাস বা ব্যাগের গায়ে লাগানো ট্যাগে তিন অক্ষরের কোড দেখতে পাবেন। এগুলোই হল আইএটিএ কোড। বিশ্বের প্রতিটি বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট পরিচয় থাকে। যেমন দিল্লির কোড DEL, মুম্বইয়ের BOM বা প্যারিসের জন্য CDG। টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে ব্যাগ সঠিক জায়গায় পৌঁছানো পর্যন্ত এই কোডই প্রধান ভরসা।
লে-ওভার: সরাসরি গন্তব্যে না গিয়ে যদি মাঝে অন্য কোনও বিমানবন্দরে নামতে হয় এবং সেখান থেকে অন্য বিমানে উঠতে হয়, তবে সেই বিরতিকে বলে 'লে-ওভার'। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের বিরতিকে 'লে-ওভার' বলা হয়। এই সময়ে আপনি বিমানবন্দরের ভেতরে থাকতে পারেন অথবা ভিসার নিয়ম মেনে বাইরেও ঘুরে বেড়াতে পারেন।
এয়ারসাইড এবং ল্যান্ডসাইড: বিমানবন্দর প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত। নিরাপত্তার বেষ্টনীর বাইরের অংশকে বলা হয় ল্যান্ডসাইড, যেখানে আপনি চেক-ইন করেন বা পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন। আর নিরাপত্তা পরীক্ষার পর গেট, ডিউটি ফ্রি শপ ও লাউঞ্জ সম্বলিত অংশটি হল এয়ারসাইড। একবার এয়ারসাইডে ঢুকে পড়লে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ল্যান্ডসাইডে যাওয়া যায় না।
ফাইল ছবি
ফাইনাল কল: লাউডস্পিকারে এই ঘোষণা শোনা মানেই বুক ধকধকানি। এর অর্থ হল, বিমান ছাড়ার আগে যাত্রীদের ওঠার শেষ সুযোগ। গেট বন্ধ হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত এটি। সুতরাং ডিউটি ফ্রি শপে কেনাকাটা করতে গিয়ে এই ঘোষণাটি কানে এলে আর এক সেকেন্ডও দেরি করা চলবে না।
ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার: যদি আপনার যাত্রাপথে কোনও স্টপেজ থাকে এবং আপনি সেই দেশে প্রবেশ না করে কেবল বিমান পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করেন, তবে আপনি একজন ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার। অনেক সময় আপনাকে বিমান থেকে নামতেই হয় না, আবার কখনও কেবল টার্মিনাল বদলে পরবর্তী গেটে যেতে হয়।
কাস্টমস: গন্তব্যে পৌঁছে ব্যাগ সংগ্রহের পর আপনাকে কাস্টমস পার হতে হয়। সঙ্গে আনা দামী ইলেকট্রনিক্স, অতিরিক্ত মদ বা নগদ টাকা থাকলে এখানে ঘোষণা করতে হয়। প্রতিটি দেশের কাস্টমস নিয়ম আলাদা, তাই আগেভাগে তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
