কয়লা কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার যোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এবার তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডল পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য 'ভিত্তিহীন' এবং 'অবমাননাকর' - এই অভিযোগে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। এর আগে এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু তার জবাব পাওয়া যায়নি বলে এবার সরাসরি মানহানির মামলা দায়ের করা হল।
শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডল পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য 'ভিত্তিহীন' এবং 'অবমাননাকর' - এই অভিযোগে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
গত সপ্তাহে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে ৯ জানুয়ারি পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করার উদ্দেশেই হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। আর ইডির দাবি ছিল, ২০২০ সালে পুরনো একটি কয়লা মামলার তল্লাশিতেই আইপ্যাক অফিসে গিয়েছিল তারা। পরস্পরবিরোধী এই বয়ান নিয়ে তরজা চলছে এখনও। তবে তল্লাশির পরদিন পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিলের পর হাজরা মোড়ে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ''ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। আমার প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খায়, কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। এখন তো সে ‘অ্যাডপটেড সন’ হয়ে গিয়েছে। আরেকজন রয়েছে জগন্নাথ। বিজেপির জগন্নাথ টু শুভেন্দু অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী টু অমিত শাহ – এইভাবে কয়লা চুরির টাকা পকেটে ঢোকে।”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ''ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। আমার প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খায়, কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। এখন তো সে ‘অ্যাডপটেড সন’ হয়ে গিয়েছে। আরেকজন রয়েছে জগন্নাথ। বিজেপির জগন্নাথ টু শুভেন্দু অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী টু অমিত শাহ – এইভাবে কয়লা চুরির টাকা পকেটে ঢোকে।”
এই মন্তব্যের পরই মানহানির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী আইনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু সে চিঠির কোনও জবাব আসেনি। শুক্রবার তাই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানির মামলাই দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর হয়ে আইনজীবী চিরঞ্জিত পাল মামলাটি করেন।
মামলার বিস্তারিত এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শুভেন্দু লিখেছেন, 'আমি আমার কথা রেখেছি। তাঁকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে) আদালতে টেনে নিয়ে গেলাম ভিত্তিহীন, মনগড়া কথা বলে অপমান করার জন্য। মামলা হারলে ১০০ কোটি টাকা দিতে হবে। সেই টাকা আমি কোথাও ভালো কাজের জন্য দান করে দেব।' একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে এখনও মমতা বনাম শুভেন্দুর মামলা বিচারাধীন। তাতে এখন যোগ হল এই মানহানির মামলা।
