‘‘রেলটেকা বাহানা থা/টিকিট লেনে কা ধাঁধা থা।’’ তাই হলুদ গামছা বদলে গেল গেরুয়া গামছায়। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর একমাত্র ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো জয়পুর বিধানসভায় ভাজপা সমর্থিত প্রত্যাশী অর্থাৎ বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা হতেই গলার গামছার রঙ বদলে যায় ওই কুড়মি নেতার। নেটিজেনরা ওই স্লোগান আওড়াতে থাকেন। মূল মানতার এই ছেলে আদিবাসী কুড়মি সমাজের পুরুলিয়া জেলা যুব সম্পাদক।
সামাজিক সংগঠন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্য কমিটির বৈঠকে তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তারপর বিজেপির পতাকা ধরে পদ্ম প্রতীকেই জয়পুর বিধানসভার প্রার্থী বনে যাবেন। বিজেপি ও আদিবাসী কুড়মি সমাজের এটাই জয়পুর বিধানসভার নির্বাচনের (Assembly Elections 2026) নীল নকশা। যা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে কুড়মি সমাজের আন্দোলন নিয়ে। এক এক করে কুড়মি নেতারা যেভাবে বিজেপির পথে পা বাড়াচ্ছেন তাতে জঙ্গলমহলে সামাজিক আন্দোলন যে মুখ থুবড়ে পড়বে তা বলছে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহল।
সামাজিক সংগঠন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্য কমিটির বৈঠকে তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তারপর বিজেপির পতাকা ধরে পদ্ম প্রতীকেই জয়পুর বিধানসভার প্রার্থী বনে যাবেন। বিজেপি ও আদিবাসী কুড়মি সমাজের এটাই জয়পুর বিধানসভার নির্বাচনের নীল নকশা। যা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
প্রার্থী ঘোষণা হতেই বৃহস্পতিবার গলায় গেরুয়া গামছা জড়িয়ে মূল মানতার ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, ‘‘পুরুলিয়ার (Purulia) মধ্যে আমরা টপে যাব। সবচেয়ে হায়েস্ট ভোটে জিতব। স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটের বঞ্চনা নিয়ে মানুষের কাছে যাব। সাড়া পাব আশা করছি। আশীর্বাদ নেব।’’ আদিবাসী কুড়মি সমাজের যে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ আহ্বান ছিল তা বিজেপিকে ভোট দেওয়ার পথেই এগিয়ে গেল। এমন কথাই বলছে জঙ্গলমহল। যা নিয়ে তুমুল কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে আদিবাসী কুড়মি সমাজকে। মূল মানতার ছেলে যে এনডিএ জোটের প্রার্থী হচ্ছেন তা সংবাদ প্রতিদিন আগেই জানিয়েছিল।
১ মার্চ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উপদেষ্টা তথা শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদানের পর আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘‘কুড়মি আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া মানে কুড়মি আন্দোলনের ক্ষতি।’’ তাঁর ছেলেই বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন। এই ঘটনায় শুধু সমাজমাধ্যমে নয় বিভিন্ন কুড়মি জনজাতির সংগঠনের নেতা-কর্মী-সহ কুড়মি আন্দোলনকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, ‘‘বিজেপি নেতা অর্জুন মুন্ডা যখন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন কুড়মি জনজাতিকে আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিতে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি যখন কেন্দ্রের আদিবাসী মন্ত্রকের মন্ত্রী হন সেই সময় আমরা অর্থাৎ পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বলেছিলেন, আন্দোলন চালিয়ে যান কিন্তু রাজনীতি যেন না আসে। আজ সেই কুড়মি সমাজের নেতা ভোট রাজনীতিতে চলে আসায় সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হল। তবে ভোটে দঁাড়ানোর পূর্ণ অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে।’’
প্রার্থী ঘোষণার পর গলায় গেরুয়া গামছা জড়িয়ে কুড়মি নেতা বিশ্বজিৎ মাহাতো। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র।
অন্যদিকে কুড়মি যৌথ মঞ্চের অন্যতম কর্মকর্তা তথা ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজের প্রধান উপদেষ্টা সুজিত মাহাতো বলেন, ‘‘সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতি মিশে গেলে আর সামাজিক আন্দোলনের দাবি-দাওয়া পূরণ হয় না।এবার ভোটের আগে জঙ্গলমহলজুড়ে সেই ঘটনায় ঘটছে। কিন্তু আমাদের দাবি একটাই অবিলম্বে কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন রাজ্য সরকারকে পাঠাতে হবে।’’ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
জঙ্গলমহলের মানুষ বলেন, ‘‘আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিতে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে মূল মানতার বৈঠক কি বোঝাপড়া? সেটিং? নাকি নিজের ছেলেকে প্রার্থী করা? এসব প্রশ্ন উঠছে বনমহলজুড়ে। কুড়মি আন্দোলনকারীকে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী করায় জয়পুর বিধানসভা কার্যালয়ে এদিন রাতে তুমুল বিক্ষোভ চলে বিজেপি নেতা-কর্মীদের। জরুরী ভিত্তিতে বসেছে বৈঠক। ওই বৈঠকে দল থেকে গণপদত্যাগের প্রস্তাব উঠে এসেছে।
