এক জেলায় ৩৩, আরেকটায় ৩১। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা - এই দুই জেলাতেই সর্বাধিক বিধানসভা আসন। অঙ্কের সহজ হিসেব বলে, বঙ্গে এই ৬৪ আসনের সিংহভাগ যে দখলে রাখতে পারবে, বঙ্গ বিজয়ে সে-ই এগিয়ে যাবে কয়েক কদম। শাসক শিবিরের শক্ত ঘাঁটি এই দুই জেলায় বরাবর চুলচেরা হিসেবনিকেশ করেই প্রার্থী বাছাই করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Candidate List)। ছাব্বিশের ভোটেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামান্য রদবদল করেই দাপট জিইয়ে রাখতে চাইছে শাসকদল। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল হচ্ছে তৃণমূলের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একমাত্র বিরোধী আসন ভাঙড়। এখানকার বিধায়ক আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে এখানে জোরদার লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, ভাঙড় থেকে এবারের প্রার্থী করা হচ্ছে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা।
ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। ফাইল ছবি
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একমাত্র বিরোধী আসন ভাঙড়। এখানকার বিধায়ক আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে এখানে জোরদার লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, ভাঙড় থেকে এবারের প্রার্থী করা হচ্ছে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে লড়বেন অন্য কেউ।
বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন প্রাক্তন মেয়র-মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক হন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। আর বেহালা পশ্চিমে ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষা দুর্নীতিতে জেলযাত্রার পর দল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর প্রার্থী করতে নারাজ তৃণমূল। তাঁর বদলে কেন্দ্র বদল করে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী করা হতে পারে। বেহালা পূর্বের প্রার্থী হতে পারেন অভিজ্ঞ শুভাশিস চক্রবর্তী।
এই জেলার আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম। দুটি কেন্দ্রই ছিল একদা দুই মন্ত্রীর দখলে। বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন প্রাক্তন মেয়র-মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক হন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। আর বেহালা পশ্চিমে ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষা দুর্নীতিতে জেলযাত্রার পর দল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর প্রার্থী করতে নারাজ তৃণমূল। তাঁর বদলে কেন্দ্র বদল করে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী করা হতে পারে। বেহালা পূর্বের প্রার্থী হতে পারেন অভিজ্ঞ শুভাশিস চক্রবর্তী।
এই জেলায় আরেক তারকা বিধায়ক লাভলি মৈত্র এবার বাদ পড়তে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নাকি তাঁকে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ফের লাভলির উপরই ভরসা রাখছে দল। ইতিমধ্যে বিশাল বাইক মিছিল করে পরোক্ষে প্রচার শুরু করেছেন।
সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলি মৈত্র। ফাইল ছবি
এবার আসা যাক উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। বারাসত কেন্দ্রের তিনবারের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী নিজেই চেয়েছিলেন ভোটের লড়াই থেকে অব্যাহতি পেতে। তাঁর আবেদন মেনে নিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, ছাব্বিশের ভোটে বারাসত থেকে টিকিট পেতে চলেছেন সব্যসাচী দত্ত। ঘাসফুল থেকে পদ্মশিবিরে গিয়েও ফেরত আসা অভিজ্ঞ নেতাকে সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সংগঠনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের তরফে। এবার প্রার্থী করতে চলেছে।
বিধায়ক হওয়ার পর নিজের দপ্তরে সায়ন্তিকা। ছবি: ফেসবুক।
শহর কলকাতা লাগোয়া বরানগর কেন্দ্রটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে এখানকার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাপস রায়। সেবছর লোকসভায় লড়াই করে হেরে যান। ফলে বরানগর আসনে বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে। সেখানে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন টলি নায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জেতার পর এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট কাজও করেছেন তিনি। তাই উপহারস্বরূপ সায়ন্তিকাকে ফের নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে এগিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। সবমিলিয়ে রাজনীতির হিসেব সামান্য বদলে দুই ২৪ পরগনায় ঘাসফুলের দাপট জারি রাখতে তৈরি হচ্ছে শাসক শিবির।
