একসময় ছিল ভয়ের পরিবেশ। ঘন শালবনের জঙ্গল থেকে বুলেট ছুটে আসবে না তো? আতঙ্ক চেপে থাকত সারাদিন। দিনের বেলাতেও খুব একটা বেশি কথা বলত না লোকে, প্রাণখোলা হাসি বা আড্ডার কথা শুনলেই আঁতকে উঠত মানুষজন। সন্ধে নামার আগেই লোকজন দুয়ারে খিল দিত। মাঝেমধ্যেই রাতের অন্ধকার খানখান করে দিত যৌথবাহিনীর ভারী বুটের আওয়াজ। কানে আসত ভয় ধরানো মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ। কখনও জাতীয় সড়কের উপর পুড়ত ট্রাক। সকালে মানুষজনের আতঙ্ক থাকত, আবার কেউ খুন হল না তো? মাঝেমধ্যেই গলা কাটা, গুলিবিদ্ধ মৃতদেহের রক্তে লাল হয়ে থাকত পুকুরের জল! এমনটাই ছিল অতীতের ঝাড়গ্রাম।
লালগড়, বেলপাহাড়ি, বিনপুর, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রামের বেশিরভাগ এলাকাই একটা সময় ছিল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল। বাতাসে সে সময় বারুদের গন্ধ। বেছে বেছে সিপিএম নেতা-কর্মীদের খুন করা হত বলে অভিযোগ। দীর্ঘ সময় পশ্চিমের রাঢ় বাংলার এই লালমাটি রক্তে আরও লাল হয়েছে। পুলিশ-যৌথবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই চলত মাওবাদীদের। বাম আমলের শেষের দিকে দীর্ঘ সময় এমনই ভয়াবহ ছবি ধরা পড়ত এইসব জায়গায়। বাম আমলের অনুন্নয়, মানুষের অনুন্নত জীবনযাত্রার 'সুযোগে' কার্যত মাওবাদীদের বদ্ধভূমি হয়ে যায় জঙ্গলমহলের এইসব এলাকা। ২০০৮ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হয়েছিল। জিন্দলদের ইস্পাত কারখানার শিলান্যাসের পর মেদিনীপুরে ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুদ্ধবাবুর কোনও ক্ষতি হয়নি। যদিও ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই জঙ্গলমহলে সামনে আসে মাও অস্তিস্ব।
বিনপুরে প্রচারের ফাঁকে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে সেলফি বীরবাহার। নিজস্ব চিত্র
সেইসময় এখন অতীত। লালমাটির এই এলাকায় এখন মানুষ রাতেও বাড়ি ফিরতে পারে৷ মেয়েরা সবুজসাথী প্রকল্পে পাওয়া সাইকেল চালিয়ে পড়তে যায়। বিনপুরের এক বাসিন্দার কথায়, এখন এলাকা সম্পূর্ণ শান্ত। এখন আর মাওবাদীরা নেই। দিদির বাংলায় কাজ হচ্ছে৷ কুটীর শিল্পে এখন মানুষের রোজগারও বাড়ছে৷ লালগড়ের বাসিন্দা কাজ থেকে ফেরা এক ব্যক্তি বলেন, এখন আর মাওবাদীদের ভয় নেই। একসময় প্রাণ হাতে করে চলাচল করতে হত। এখন রাস্তাঘাটও হয়েছে। বাস চলাচল করে। লালগড়ে নার্সিং ট্রেনিং কলেজ থেকে বিজ্র, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রচুর উন্নতি হয়েছে।
বাম আমলে বেলপাহাড়ির আমলাশোলের জোড়াম গ্রাম। পিঁপড়ের ডিম খেয়ে মানুষজন সেখানে দিন গুজরান করছে। সেই ছবি প্রকাশিত হতেই নাড়িয়ে দিয়েছিল সমাজ। সেইসময়ের বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়েছিলেন সেই এলাকায়। মানুষের জীবনের বেঁচে থাকার গল্প শুনেছিলেন। বহু জায়গায় প্রচারে বার্তা দেন, জঙ্গলমহলের উন্নতির প্রয়োজন। মানুষের কাজ, খাবার দুটোই চাই। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। শবর এলাকাতেও চলছে উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ থেকে রুক্ষ মাটিতে ফসল ফলানোর কাজ চলছে। একসময়ের অন্ধকার, অনিশ্চয়তার শালবনের এই এলাকায় এখন স্থানীয়ভাবে পর্যটন শিল্পেও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ঝাড়গ্রাম, বিনপুর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও এই মুহূর্তে যথেষ্ট পরিচিত। রাঢ় বাংলার এইসব এলাকার পরিবেশ, সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে দলে দলে পর্যটকরা ভিড় করেন।
বিনপুর বিধানসভা বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডু। নিজস্ব চিত্র
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রচার করছে শাসক দল তৃণমূল। এদিকে এলাকার অনুন্নয় ও কুড়মি, আদিবাসীদের ইস্যু করে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপিও। ২০২৪ সালে এই জেলায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বেড়েছে। সেই ভোটকে সামনে রেখে লালমাটিতে জোর প্রচারও চালাচ্ছে বিজেপি। ঝাড়গ্রাম শহরাঞ্চলে গেরুয়া শিবিরে প্রভাব গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
রাজনীতির ইতিবৃত্ত...
২০১১ সালে বাংলায় রাজনীতির পালাবদলের পর থেকেই জঙ্গলমহলে উন্নয়নের শুরু, একথা বলাই যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের জীবনের উন্নতির জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। রেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি, একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে আসা -- একের পর এক মাস্টার্স স্ট্রোক ঝাড়গ্রাম জেলা-সহ জঙ্গলমহলের আবহটাকেই যেন বদলে দেয়।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রচার করছে। লাল মাটির জেলা ঝাড়গ্রামে বিরোধী শক্তির তেমন কোনও জায়গা নেই। গত বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল এই জেলায় শহর জয় পেয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত। আরও উন্নয়নের বার্তা নিয়েই এবার লড়ছে শাসক দল। রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র থেকে গতবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার বিনপুর কেন্দ্র থেকে তিনিই প্রার্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার উন্নয়নের জন্য একাধিক বার্তা দিয়েছেন।
এই জেলার একটা অংশের ভোটার আদিবাসী-মূলবাসী। শবর জাতিদের বাস এই জেলায়। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী ভোট প্রায় ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, কুড়মি ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, এমন দাবি করে শাসকদলের নেতৃত্ব। এইআরআরের প্রভাব এই জেলাতেও পড়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলায় চারটি বিধানসভা আসন রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রাম। প্রত্যেকটি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস গত বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিল। এবারও ২৬-এর নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চান তৃণমূল নেতৃত্ব। ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার। গতবার এই কেন্দ্র থেকে বিরবাহা ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর আমলে জেলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন কালীপদ সোরেন। তিনি বিজেপির প্রার্থী প্রণত টুডুকে ১ লক্ষ ৭৪ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে সাংসদ হয়েছেন।
এবারের রাজনীতির লড়াই
একসময় পশ্চিমাঞ্চলের এই এলাকায় দাপট ছিল লাল ঝান্ডার। কালের নিয়মে সিপিএমের সেই রাজ্যপাঠ এখন আর নেই। এবারও সিপিএম ভোটে লড়ছে। বামফ্রন্টের তরফে এই জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে৷ জোট না হওয়ায় এবার কংগ্রেসও প্রার্থী দিয়েছে। চারটি আসনে লড়ছে বিজেপিও। খাতায় কলমে চতুর্মুখী লড়াই হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বিজেপি। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই জেলার একটা অংশের ভোটার আদিবাসী-মূলবাসী। শবর জাতিদের বাস এই জেলায়। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী ভোট প্রায় ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, কুড়মি ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, এমন দাবি করে শাসকদলের নেতৃত্ব। এইআরআরের প্রভাব এই জেলাতেও পড়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ১২৪০ ভোটারের৷ প্রাথমিকভাবে সেই কথাই জানা গিয়েছে।
নয়াগ্রাম আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দুলাল মুর্মু। ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী অমিয় কিসকু। সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী করেছে পুলিন বিহারী বাস্কে ও প্রশান্ত মুর্মুকে। ঝাড়গ্রামে এবার তৃণমূলের প্রার্থী মঙ্গল সোরেন। বিজেপি প্রার্থী করেছে লক্ষ্মীকান্ত সাহুকে। বিনপুরে এবার বীরবাহা হাঁসদাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ওই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়ছেন জেলার অন্যতম মুখ প্রণত টুডু। তৃণমূলের অজিত মাহাতো গোপীবল্লভপুর আসন থেকে লড়াই করছেন। এই কেন্দ্রেই কুড়মি নেতা রাজেশ মাহাতোকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। সিপিআই বিকাশ সারঙ্গীকে প্রার্থী দিয়েছে।
গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো। নিজস্ব চিত্র
কোন ফ্যাক্টরে এবার ভোট...
উন্নয়নকে সামনে রেখে ভোট লড়ছে তৃণমূল। অন্যদিকে, আদিবাসী ও কুড়মি ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে আনার জন্য মরিয়া বিজেপিও। জেলার কুড়মি আন্দোলনের মুখ রাজেশ মাহাতো বিজেপির গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের প্রার্থী। ওয়াকিবহাল মহলের মত, কুড়মি ও আদিবাসী ভোট নিজেদের দিকে আনতেই এই কৌশল নিয়েছে বিজেপির। রাজেশ মাহাতোর কথায়, আদিবাসী এলাকায় উন্নয়ন হয়নি। রাজ্য সরকার ভোট ছাড়া তাঁদের কথা ভাবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন হবে। এদিকে জেলার তৃণমূলের মুখ বীরবাহা হাঁসদা জানিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। প্রান্তিক এলাকার মানুষজনের জীবনেও বদল এসেছে। বিজেপি অপপ্রচার করে বেশি কিছু করতে করতে পারবে না।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তেমন একটা দাগ কাটতে পারেনি বিজেপি। সেবার ১৫.৬% শতাংশ ভোট পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় সাড়ে ৫৫ শতাংশ ভোট। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি প্রায় ২ গুণ ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়ে ফেলে। তবে ২০২১ ও ২০২৪ সালের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট শতাংশের বিচারে বেশ কিছুটা কমে। ৩৯.০৫ শতাংশ ভোট ২০২৪ সালে পেয়েছিল বিজেপি। যদিও তৃণমূল প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ভোট শতাংশের বিচারে তৃণমূলের তেমন কোনও সমস্যা না হলেও ঝাড়গ্রাম শহর বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। ঝাড়গ্রাম শহরের ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি জিতে পুরসভা দখলে রেখেছে রাজ্যের শাসকদল। তবে সর্বশেষ লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে বিজেপি ১১টি ওয়ার্ডে এগিয়ে। এই ফলাফল গেরুয়া শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে বলে খবর। যদিও তৃণমূলের দাবি, মানুষ সঙ্গে আছে, বিজেপির ভোট আরও কমবে।
জেলায় নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম তিনটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও আরও আধুনিক হয়েছে। এছাড়াও নয়াগ্রামের জঙ্গল কন্যা সেতু, লালগড়ে কংসাবতি নদীর উপর সেতু, লালগড়ের সেতু জেলার যোগাযোগের মাধ্যমকে আরও উন্নত করেছে।
জেলায় নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম তিনটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও আরও আধুনিক হয়েছে। এছাড়াও নয়াগ্রামের জঙ্গল কন্যা সেতু, লালগড়ে কংসাবতি নদীর উপর সেতু, লালগড়ের সেতু জেলার যোগাযোগের মাধ্যমকে আরও উন্নত করেছে। একসময় লালগড় ও বেলপাহাড়ি ছিল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল। তৃণমূল সরকারের আমলে সেখানেও উন্নয়ন হয়েছে। লালগড় নার্সিং কলেজ, লালগড় সরকারি কলেজ, ওপিডি যুক্ত লালগড় গ্রামীণ ৬০ শয্যার হাসপাতাল হয়েছে। রামগড়ে হয়েছে আটিআই কলেজ। বেলপাহাড়িতে ৬০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতাল হওয়ার পাশাপাশি সিজার প্রক্রিয়াও চালু হয়েছে। বেলপাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও এখন সুপরিচিত। কেবল বেলপাহাড়িতেই ৭০টির কাছাকাছি হোমস্টে রয়েছে। বেলপাহাড়ির ঘাঘড়া জলপ্রপাত দেখতে সারা বছরই ভিড় করেন প্রচুর পর্যটক। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি বহু বছর ধরে পর্যটকদের দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে৷ আশেপাশে রয়েছে একাধিক থাকার জায়গা, হোম স্টে৷ বিনপুর, নয়াগ্রামের আদিবাসী অধ্যূষিত জায়গাগুলিতে এখন পর্যটকরা পৌঁছে যেতে পারেন। উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। গত পাঁচ বছরে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানাও অনেক বেশি ঢেলে সাজানো হয়েছে৷
বেলপাহাড়ির ঘাঘড়া জলপ্রপাতে পর্যটকদের ভিড়। নিজস্ব চিত্র
ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পও এই জেলায় এখন যথেষ্ট সুপরিচিত। জঙ্গলমহলের মহিলারা হাতের কাজ করছেন। কর্মসংস্থান বাড়ছে জেলায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় হওয়া হস্তশিল্প মেলায় শিল্পীরা তাঁদের পসরা সাজিয়ে হাজির হন। আরও বেশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এক সময় মানুষজনের রুটিরুজির সমস্যা ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রান্তিক মানুষদের জন্য ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এই এলাকায় রেশনিং ব্যবস্থার উন্নতিও হয়৷ গ্রামের মানুষদের উন্নতির জন্য একের পর এক প্রকল্প চলতে থাকে। এই জেলার একটা বড় অংশ প্রান্তিক মানুষ। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রীর মতো প্রকল্প মানুষের মধ্যে বিশেষ দাগ কাটে। সবুজ সাথীর সাইকেল স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে প্রতি বছর বিতরণ হয় সরকারের তরফে। ফলে পড়তে যাওয়া, স্কুল যাওয়ার সমস্যাও পড়ুয়াদের অনেকটাই কেটেছে। জেলায় স্কুলছুটের সংখ্যাও কমেছে বলে খবর।
এই জেলার অন্যতম সমস্যা হল বুনো হাতির হানা। মরশুমের সময় ফসলের খেতে হানা দেয় হাতির পাল। ফসল নষ্টের পাশাপাশি হাতির আক্রমণে মানুষজনের প্রাণহানিও হয়। হাতি সমস্যা কেবল ঝাড়গ্রাম নয়, জঙ্গলমহলের সবক'টি জেলারই একটি বড় সমস্যা৷ হাতিদের বনের ভিতর খাবারের সংস্থান করার জন্যও কাজ করছে বনদপ্তর। পাশাপাশি মানুষজনকেও সচেতন করার কাজ চলছে। পুকুরে মাছচাষ থেকে 'জল ধরো জল ভরো' প্রকল্পে জেলার বহু মানুষের কর্মসংস্থান, উন্নতি হচ্ছে।
প্রচারের ফাঁকে কচিকাঁচাদের সঙ্গে বীরবাহা হাঁসদা। নিজস্ব চিত্র
উন্নয়নের মাধ্যমেই তৃণমূল আরও বেশি ভোট পাবে, এমনই মনে করছেন নেতৃত্ব। পালটা প্রচার করছে বিজেপি, সিপিএম-কংগ্রেসও। একদা মাও এলাকায় ভোটের লড়াইতে কারা জিতবে? তৃণমূল কি আরও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াবে? নাকি এবার জেলার কোনও আসন ছিনিয়ে নিতে পারবে বিজেপি? সেই চর্চা চলছে।
