সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেউ গান বাঁধছেন তো কেউ পথনাটিকাকে হাতিয়ার করছেন। কেউ আবার ওয়ান লাইনার স্লোগানে বুক বাঁধছেন, কেউ রঙিন ফ্লেক্স দিয়ে দেওয়াল ভরাচ্ছেন। বিধানসভা নির্বাচনের সৌজন্যে এবার অভিনব প্রচার দেখেছে রাজ্য। এই তালিকায় নয়া সংযোজন ‘#রাগ কেন দিদি’ স্লোগান। শহরের রাজপথে এই স্লোগান লেখা ব্যানার, ফ্লেক্স শোভা পাচ্ছে। কারা টাঙাচ্ছে এই ফ্লেক্স? তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াকিবহাল মহল কিন্তু গেরুয়াশিবিরের দিকেই আঙুল তুলছেন। এটা তাদেরই মস্তিষ্কপ্রসূত বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি শহর মুড়েছে রঙিন ফ্লেক্সে। যার ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে হরেকরকমের রঙ। সামনে রাগী-রাগী মুখের একটি কার্টুন। সঙ্গে লেখা ‘#রাগ কেন দিদি?’ কে বা কারা এই ফ্লেক্স, পোস্টার সাঁটাচ্ছেন, তার কোনও উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই এই ‘উক্তি’টি ঘিরে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বাংলায় নির্বাচনী সভা করতে এসে বারবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করেছেন। শ্লেষের সুরে প্রশ্ন করেছেন, ‘এত রাগ কেন?’ ওয়াকিবহাল মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সেই উক্তিকেই এবার প্রচারের হাতিয়ার করছে গেরুয়া শিবির।
[আরও পড়ুন : বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেই পুরভোটের দামামা, জনসংযোগ জারি কাউন্সিলরদেরও]
মোদির এই ‘ও দিদি’র স্বর বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাষণের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে নারী বিদ্বেষ। রাজ্যের শাসকদল বলছে, মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরেই ‘দিদি’ বলে ডাকছেন মোদি। তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে শশী পাঁজা, জুন মালিয়া, অনন্যা চক্রবর্তীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর আচরণ দুর্ভাগ্যজনক এবং তিনি নারীবিদ্বেষী। তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, ”আজ আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেদের আসনকে সম্মান করছেন না। দেশের প্রধানমন্ত্রী টোন কাটছেন। টিটকিরি দিচ্ছেন। ওঁর ভাষণেই স্পষ্ট উনি কতটা নারীবিদ্বেষী। দেখেছেন ঠিক কোন ভঙ্গিমায় জনসভাতে উনি ‘দিদি ও দিদি’ বলেন। আপনি কি কারও সম্পর্কে একথা বলতে পারেন? এটা কি ঠিক? সর্বসমক্ষে কীভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে কটূক্তি করছে! কেন একজন প্রধানমন্ত্রী এত নিচে নেমে যাবেন যে ওঁকে হেনস্তাকারী, মহিলাদের উত্যক্ত করার মতো মানুষ ভাবা হবে?”
[আরও পড়ুন : পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক! পর্ষদের নামে ভুয়ো পোস্ট ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া]
তৃণমূলের সেই আপত্তিকে যে আদৌ গেরুয়া শিবির পাত্তা দেয়নি, তা এই ফ্লেক্সগুলি থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই পোস্টার, ফ্লেক্স, ব্যানার নিয়ে এখনও পর্যন্ত দু’তরফের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।