তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার মধ্যে পড়ে জখম হলেন তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধু। গতকাল রাতে তারকেশ্বর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বিপিআর এলাকায় এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দুই পক্ষকে সামাল দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হন তারকেশ্বর থানার ওসি ও কয়েকজন পুলিশ কর্মী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত বিপিআর গেট এলাকায় তৃণমূল নেত্রী পূজা সাউয়ের বাড়িতে কয়েকজন দুষ্কৃতী ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাঁরা বিজেপির দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ। পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তৃণমূল। অশান্তির খবর পাওয়া মাত্র তারকেশ্বর থানার ওসি তাঁর টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তারকেশ্বর থানার ওসি-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হন। গুরুতর অবস্থায় ওসি সুব্রত সাধুকে তারকেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজই তিনি কাজে যোগ দিতে পারেন।
যদিও পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় একে অপরের দিকে দায় ঠেলছেন রাজনৈতিক দল তৃণমূল ও বিজেপি। হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানী রাজ জানান, ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তাঁরা বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। দলের কর্মীদের আটক করার প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পুলিশকে মারধরের ঘটনায় বিজেপি দায়ী নয়। এই ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার পাথুরিয়া এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।
