উত্তরপ্রদেশের 'মডেলে' বাংলাতেও নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) কারচুপি হয়েছে। এখানেও ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করতে এসে একথা জানালেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। সোমবার রাজ্যে পালাবদলের পর বৃহস্পতিবার অখিলেশ মমতার কালীঘাটের বাড়িতে আসেন। নির্বাচনে ভালো লড়াই করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে প্রথমে শুভেচ্ছা জানান অখিলেশ। তারপর মমতার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আপনি হারেননি"। গণতন্ত্রের বাঁচানোর লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রীর পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন অখিলেশ।
অখিলেশ আরও বলেন, "বাংলার নির্বাচনে বেইমানি হয়েছে। এইবারের নির্বাচনে মাল্টি লেয়ার মাফিয়াগিরি হয়েছে। বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকজন মিলে এই নির্বাচন করিয়েছে। নির্বাচনে লুট করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিরোধীকে হারানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের উঁচু পদের লোভ দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে।" বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশে বিজেপি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে ভোট করানোর অভিযোগ তুলেছেন অখিলেশ। একাধিক ছবি ও ডেটা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের মতো বাংলাতেও বিরোধী দলের এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে ভোট হয়েছে। সেই কারণে বিভিন্ন আসনে বিজেপি বেশি মার্জিনে জিতেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নিরাপত্তার বিষয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মহিলা-বিরোধী। গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইয়ে মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বুধবার আততায়ীদের গুলিতে খুন হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এবিষয়ে অখিলেশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই খুনের ঘটনার জন্য দায়ী।
উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে পতন হয়েছে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের। নিয়ম অনুযায়ী নতুন সরকার গঠন হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, তিনি নির্বাচনে হারেননি। কারচুপি করে তাঁকে এবং তাঁর দলকে হারানো হয়েছে। কালীঘাটে এসে মমতার সেই দাবিকেই মান্যতা দিলেন অখিলেশ।
