বড়সড় পদক্ষেপ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের। কার্যত এক কলমের খোঁচার নেপালে চাকরি হারাতে চলেছেন ১৫০০-র বেশি উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক। সরকারি পদাধিকারীদের অপসারণের লক্ষ্যে নয়া অধ্যাদেশ জারি করেছেন নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল। যার মাধ্যমে ২৬ মার্চের আগে সমস্ত নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে।
জেন-জি বিদ্রোহে প্রাক্তন সরকারকে উৎখাত ও জাতীয় নির্বাচনের গত মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। এই দলের প্রধান বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর পরই দেশ সংস্কারের পথে হেঁটেছেন নয়া প্রধানমন্ত্রী। সেই লক্ষ্যেই প্রাক্তন আধিকারিকদের ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে সরকার। নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারের এই পদক্ষেপের নেপথ্য কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। তা হল পূর্ববর্তী সরকারগুলির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিয়োগ বন্ধ করা। অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ২৬শে মার্চের আগে যে কোনও সরকারি নিয়োগ, তার মেয়াদ, সুবিধা বা শর্ত, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল বলে গণ্য হবে।
সরকারি পদাধিকারীদের অপসারণের লক্ষ্যে নয়া অধ্যাদেশ জারি করেছেন নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল। যার মাধ্যমে ২৬ মার্চের আগে সমস্ত নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর একধাক্কায় ১,৫৯৪ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। যে সকল বিভাগে আপাতত এই ছাঁটাই চলেছে সেগুলি হল, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, বিমান পরিবহণ, পর্যটন, কাঠমান্ডু উন্নয়ন পর্ষদ, জল সরবরাহ, প্রেস কাউন্সিল, জাতীয় সংবাদমাধ্যম, কৃষি-সহ আরও নানা ক্ষেত্র।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপ দেশে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, প্রেস কাউন্সিল অফ নেপালের মতো গণমাধ্যমের শীর্ষ আধিকারিকদের বরখাস্তের ঘটনা। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারি তথ্য এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, সরকারের যুক্তি, ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল।
