বিরল তো বটেই, একে বিজ্ঞানের মহাবিস্ময়ও বলা যেতে পারে। মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নিয়েছিল দুই কন্যাসন্তান। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে যমজ সন্তান। তবে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল, সন্তান যমজ হলেও তাঁদের বাবা আলাদা। সন্দেহের বশে ডিএনএ টেস্ট করাতেই সামনে এসেছে চরম বিস্ময়কর এই ঘটনা। ব্রিটেনের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বিরল ঘটনা প্রথমবার সামনে এল বলে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু কীভাবে এই বিরল ঘটনা ঘটল? ব্রিটেনের ইতিহাসে এই ঘটনা প্রথমবার ঘটলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দুনিয়ায় এটি একেবারে বিরল নয়, বিশ্বজুড়ে এখনও পর্যন্ত এমন ২০টি ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে সন্তান যমজ হলেও তাঁদের বাবা ভিন্ন। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয়, 'হেটারোপ্যাটার্নাল সুপারফেকান্ডেশন'। যার সহজ ব্যাখ্যা হল, একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে দুটি ডিম্বানু নিষিক্ত হয়েছে দুই ভিন্ন পুরুষের দ্বারা। এই ধরনের বিরল ঘটনা তখনই ঘটে, যখন মা দু'টি ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অল্প সময়ের ব্যবধানে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। সেই সময়ে তাঁর ডিম্বস্ফোটন ঘটে। সেক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন শুক্রাণু নিষিক্ত হয়ে জন্ম হতে পারে যমজ সন্তানের যাদের বাবা ভিন্ন।
একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে দুটি ডিম্বানু নিষিক্ত হয়েছে দুই ভিন্ন পুরুষের দ্বারা। এই ধরনের বিরল ঘটনা তখনই ঘটে, যখন মা দু'টি ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অল্প সময়ের ব্যবধানে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সি মিচেল ও তাঁর বোন লাভিনিয়া অসবর্নের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৬ সালে নটিংহামের এক হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল দু'জনের। তাঁদের মা তখন ছিলেন ১৯ বছরের এক তরুণী। ওই সন্তানদের ৫ বছর বয়সে তাঁদের ফেলে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তাঁদের মা। কৈশোরে তাঁদের বলা হয় তাঁদের পিতা জেমস নামে এক ব্যক্তি। তবে পিতার পরিচয় নিয়ে দুই কন্যার মনে সন্দেহ ছিল। ২০২১ সালে তাঁদের মায়ের ডিমেনশিয়া ধরা পড়লে সত্য জানার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মিচের নিজের পিতৃ পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করান। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর দিন সেই পরীক্ষার ফল সামনে আসে। যেখানে দেখা যায় জেমস মিচেলের জৈবিক বাবা নন। পরে অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবা অ্যালেক্স নামের একজন ব্যক্তি।
এই ঘটনার পর লাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করান। সেখানে দেখা যায়, তাঁর পিতা জেমস। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিপদের সময়ে তাঁদের মা জেমসের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে গর্ভবতী হয়েছিলেন। মিচেল অবশ্য তাঁর পিতার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে খুব একটা আগ্রহী নন। তবে দুই বোনই জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাঁদের পরিচয় ভিন্ন হলেও তাঁদের আত্মিক বন্ধন অটুট থাকবে।
