ইরান যুদ্ধে নেমে কার্যত 'নাক কাটা' গিয়েছে মহাশক্তিধর আমেরিকার। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সামনে লজ্জা ঢাকতে তৎপর হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার তরফে স্যাটেলাইট সংস্থাগুলির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, লজ্জার সে দৃশ্য না দেখানোর।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ইরানের ভয়ঙ্কর হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন বেসরকারি স্যাটেলাইট সংস্থাগুলির কাছে বিশেষ অনুরোধ পাঠায়। সেখানে মার্কিন প্রশাসনের 'অনুরোধ' ছিল, ধ্বংস হয়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবিগুলি যেন গণমাধ্যমে বা ইন্টারনেটে প্রকাশ না করা হয়। জানা যাচ্ছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন এই ঘটনায় যারপরনাই শঙ্কিত ছিল। পেন্টাগনের আশঙ্কা ছিল, ধ্বংস হয়ে যাওয়া মার্কিন ঘাঁটির ছবি প্রকাশ্যে আসলে শক্তিশালী আমেরিকার ভাবমূর্তি খুন্ন হবে।
মার্কিন প্রশাসনের 'অনুরোধ' ছিল, ধ্বংস হয়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবিগুলি যেন গণমাধ্যমে বা ইন্টারনেটে প্রকাশ না করা হয়।
পেন্টাগনের আরও আশঙ্কা ছিল, বিশ্ব যদি আমেরিকার এই ছবি দেখে ফেলে তবে তা প্রমাণ করে দেবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধে আমেরিকাকে পরাজিত করেছে। সেই অপমান এড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আমেরিকা। যার জেরেই এত উদ্যোগ। বর্তমানে, ম্যাক্সার এবং প্ল্যানেট ল্যাবসের মতো বেসরকারি স্যাটেলাইট সংস্থাগুলি মহাকাশ থেকে যেকোনো আক্রমণের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র ধারণ করে এবং তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়নি যে এই সংস্থাগুলো ইরানের মারণ হামলা ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ করুক। আমেরিকার দুর্বলতা যাতে বিশ্ব তথা মার্কিন জনগণ জানতে না পারে তার জন্যই এই পদক্ষেপ।
আমেরিকার এই পদক্ষেপে কাজও হয়েছিল বলে দাবি। আমেরিকার অন্যতম প্রধান স্যাটেলাইট সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবস মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের যাবতীয় স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। খোদ ট্রাম্পের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংস্থার তরফে জানানো হয়, শত্রুপক্ষ যাতে এইসব ছবি ব্যবহার করে আমেরিকা ও তার মিত্রপক্ষের উপর হামলা চালাতে না পারে সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। যদিও দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল আমেরিকার লজ্জায় পর্দা চাপানো।
