সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের হামলা তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি)। এই হামলায় ৭ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। জানা যাচ্ছে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাবান এলাকায় এই হামলা চলে। পাক সেনার পালটা গুলিতে বেশ কয়েকজন হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় একটি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে পাক সরকারের। জঙ্গি হামলার আশঙ্কার জেরে এখানকার নিরাপত্তায় সর্বদা সেনা মোতায়েন থাকে। সোমবার অতর্কিতে এখানকার নিরাপত্তাবাহিনীর কনভয়ে হামলা চালায় টিটিপি। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় গুলিবৃষ্টি। সেখানেই মৃত্যু হয় ৭ জনের, আহত হন আরও ১৫ জন। পালটা গুলি চালায় পাক সেনাও। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে দু'পক্ষের গুলির লড়াই। হামলাকারী দলের ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পাক সেনার। আহত জওয়ানদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যায় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান, বালোচ লিবারেশন আর্মির মতো স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলি পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব। যার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বারবার হামলার শিকার হয় পাক সেনা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার এই অঞ্চলে হামলার মুখে পড়েছে পাক সেনা। মৃত্যু হয়েছে বহু জওয়ানের। পালটা এই জায়গাগুলিতে সামরিক অভিযান আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়েছে শাহবাজ সরকার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, দারাবানে একটি অভিযানের ১৩ জনের মৃত্যু হয় পাক সেনা দাবি করে মৃতরা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। এপ্রিলেও ডেরা ইসমাইল খানের তাকওয়ারা এলাকায় অভিযানে মৃত্যু হয় ৯ জনের।
এদিকে ২০২১ সালে মার্কিন সেনাকে তাড়ানোর পর আফগানিস্তানের শাসনভার উঠেছে তালিবানের হাতে। পাকিস্তানের আশা ছিল আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় এলে পাকিস্তানকে সমর্থন করবে তারা। পাকিস্তানের মাটিতে থাকা সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরগুলি আফগানিস্তান থেকে পরিচালনা করা যাবে। সেখানকার সশস্ত্র সংগঠনগুলিকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। যদিও বাস্তবে তা হয়নি। বরং অতীতের মতো ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে তালিবান। তাতে ক্ষেপে উঠেছে পাকিস্তান। ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি হলেও উত্তেজনা এখনও কমেনি।
