শিশুধর্ষণ ও মানব পাচারের মতো অভিযোগে তিনি ছিলেন জেলবন্দি। পরে জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। এমনই 'গুণধর' এক পাক নেতা ভোটে জিতলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। যদিও এই নির্বাচন যে আদতে পুরোটাই 'সাজানো', তা দাবি করেছে ভারত। এহেন 'জাল' ভোটেই জয়ী হয়েছেন অভিযুক্ত রাশকর আহমেদ।
ম্যাঞ্চেস্টারের একটি চক্রের সঙ্গে নাকি জড়িত ছিলেন রাশকর। সেই সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। যার মধ্যে শিশুধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে অবশ্য তিনি জামিন পান। সেই নেতাই এবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিকে জুলাইয়ে ফের তাঁকে জামিনের শুনানির জন্য ডাকা হলেও তিনি 'অসুস্থতা'র বাহানা দিয়ে যাননি! অথচ সেই তিনিই দিব্যি ভোটে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়ে নির্বাচন শেষ হবে ১০ আগস্ট। এখনও পর্যন্ত পিএমএল-এন জয়লাভ করেছে ৫৩টির মধ্যে ২৪টিতে। ৬২ বছরের রাশকর জিতেছেন ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। ২০২১ সালে অবশ্য তিনি এই আসনেই হেরে গিয়েছেন। তার আগে ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারে একাধিক বার মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন তিনি।
গত মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলে দাবি করে, 'সম্পূর্ণ প্রহসনমূলক' নির্বাচনের মাধ্যমে অধিকৃত কাশ্মীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। সেই সঙ্গেই তাদের জোরালো দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলিকে আড়াল করতে পারবে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ওই এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পাকিস্তানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। তাঁর কথায়, ''পিওকে-তে তথাকথিত এই স্থানীয় নির্বাচনটি একটি নিছক প্রহসন। প্রকৃত ঘটনা হল জনগণের বিক্ষোভ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। এই ধরনের অন্তঃসারশূন্য কার্যকলাপ দিয়ে বাস্তবটাকে আড়াল করা সম্ভব নয়।''
