shono
Advertisement
Balochistan

'৮৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে', পাকিস্তানের শিকল ছিঁড়ে 'স্বাধীন বালোচিস্তান' ঘোষণা বিদ্রোহীদের

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 07:01 PM Jul 14, 2026Updated: 07:27 PM Jul 14, 2026

পাকিস্তানের সেনার সঙ্গে দীর্ঘ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করল বালোচিস্তান। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত এক লিখিত বিবৃতি সামনে এসেছে। বিবৃতিতে কোনও সংগঠনের নাম না থাকলেও অনুমান করা হচ্ছে, এই বিবৃতি বালোচ লিবারেশন আর্মির (BLA)। যেখানে বালোচিস্তানকে 'রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান' নামে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

সোশাল মিডিয়ায় জারি করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে বালোচিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, বালোচদের নিজস্ব মুদ্রা (বালোচ ফালুস), জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীতও রয়েছে। এছাড়াও দেশের সোনা ও তামার খনি, ১৫০টির বেশি জ্বালানি গ্যাসের খনি, ১২০০টির বেশি কয়লাখনির নিয়ন্ত্রণ এখন দেশের জনগণের নিয়ন্ত্রণে। এখানেই শেষ নয়, নয়া দেশ হিসেবে বালোচিস্তানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে। ৫ লক্ষ সদস্য বালোচিস্তানের মিলিটারি, নৌসেনা, বায়ু সেনা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কর্মরত। বিদ্রোহীদের দাবি, এখনও যে অংশে পাকিস্তান সেনা রয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ বাহিনী থেকে বালোচ ও পশতুন সম্প্রদায়ের সদস্যরা পদত্যাগ করছেন। এই অবস্থায় বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই চিঠি।

উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই অঞ্চলে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে পাক সেনাকে। এই অবস্থায় পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। তারই প্রতিবাদে স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে নামে সেখানকার মানুষ। অবশেষে বালচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণায় পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এটাও অবশ্য ঠিক যে, ওই লিখিত বিবৃতি ভাইরাল হলেও, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংগঠনের নাম নেই। তাছাড়া, কোনও বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা বা স্বীকৃত সরকার এখনও বেলুচিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement