আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে আততায়ীর ছুরি হামলাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক ব্যক্তিকে মুণ্ডচ্ছেদ করার চেষ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুদানের এক শরণার্থীকে। আর সেই হামলার পরই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে শহর। আততায়ীর ছুরি হাতে হামলায় আইএসের 'ছায়া' দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শরণার্থীর আড়ালে ইউরোপে ডেরা বাঁধছে জেহাদিরা?
বেলফাস্টে প্রতিহিংসার আবহ অবশ্য নতুন নয়। গত শতকের ছয়ের দশক থেকে নয়ের দশক, তিরিশ বছরে বারবার আইরিশ জাতীয়তাবাদী ও ব্রিটিশিদের মধ্যে নিয়মিত সংঘাত লেগেই থাক। তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলেছে। বেলফাস্ট কিন্তু গত দশকে শান্ত, স্থিতিশীল এক নগরে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এবার নতুন করে অশান্তির আগুন ছড়াল ওই এলাকায়।
গত সোমবার ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে কোপাতে থাকে হামলাকারী। সে ওই ব্যক্তির মুণ্ডচ্ছেদ করার চেষ্টা করছিল বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি। ওই মহিলার দাবি, সেই সঙ্গেই আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্দেশে সে এমনভাবে ছুরি ঘোরাচ্ছিল, যেন ইঙ্গিত করছিল কাছে এলে তাঁদেরও ভয়ানক দশা হবে।
জানা গিয়েছে, ওই আততায়ী আদতে একজন শরণার্থী। বয়স ৩০। সে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেয়েছিল। ২০২৩ সালে প্যারিস ও ডাবলিন হয়ে সে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিল। এরপরই সে অ্যাসাইলামে থাকার আবেদন করে।
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে হামলার ভিডিও। সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। সেখানে দেখা যাচ্ছে আক্রান্তের পিঠে বারংবার আঘাত করে চলেছে আততায়ী। এরপর সে তাঁর বুকের উপরে চেপে বসে। তারপর গলায় ছুরি চালাতে শুরু করে সে। সেই সময় তাকে বেশ কাহিল দেখাচ্ছিল। এমনকী, নিজের ঠোঁট থেকে রক্ত চাটতেও দেখা গিয়েছে। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ওই আততায়ী কি আইএসের সঙ্গে যুক্ত। যেভাবে সে আক্রান্তের মুণ্ডচ্ছেদ করতে চাইছিল, তা ওই জঙ্গি গোষ্ঠীকেই মনে করায়।
