এপস্টেইন কাণ্ডে নাম জড়ানোয় দিল্লির এআই সম্মেলনে বক্তৃতা দেননি বিল গেটস। এবার গোটা ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলেন মাইক্রোসফ্টের প্রতিষ্ঠাতা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, 'গেটস ফাউন্ডেশন'-এর তরফে জানানো হয়েছে, এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর নাম জড়ানোর বিষয়টিতে দায়িত্ব নিচ্ছেন গেটস।
আমেরিকার কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে গেটসের নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত জানুয়ারি মাসে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ান মহিলাদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমের জেরে গুরুতর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই ধনকুবের। এমনকী অধঃস্তন কর্মীকে দিয়ে ওষুধ আনিয়ে তা গোপনে স্ত্রীকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মাইক্রোসফট কর্তা। এহেন তথ্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে যায়। যদিও গেটসের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়েছিল, এই তথ্য ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’।
এবার অবশ্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন বিল গেটস। সংস্থা মাইক্রোসফ্টের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের সময় কর্মীদের গেটস বলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে সময় কাটানো, তাঁর সঙ্গে বৈঠকে ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের জড়ানো "একটি বিশাল ভুল" ছিল। এর জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, "আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি, যাঁরা আমার ভুলের জন্য ভুক্তভোগী হয়েছেন।" একথা বলেও মাইক্রোসফ্ট কর্তার দাবি, "আমি কোন অবৈধ কাজ করিনি এবং দেখিনি।" আরও বলেন, "আমি কখনও নির্যাতিতাদের সঙ্গে সময় কাটাইনি, এপস্টেইনের আশপাশের মহিলাদের সঙ্গেও সময় কাটাইনি।" এপস্টেইনের কোনও রকম অপরাধমলূক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন, দাবি করেছেন বিল গেটস।
রুশ মহিলাদের শয্যসঙ্গী হতে চেয়েছিলেন বিল গেটস। তাঁর সেই অনুরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন এপস্টিন।
আমেরিকার বিচার বিভাগের তরফে এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩৫ লক্ষ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে অন্তত দু’হাজারটি ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। যার ছত্রে ছত্রে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, এলন মাস্ক, বিল গেটসের মতো ধনকুবেরদের কেচ্ছা। প্রকাশিত এই ফাইলেই রয়েছে বেশ কিছু ইমেল। যেগুলি এপস্টেইন নিজেই নিজেকে পাঠিয়েছিলেন। সেই ইমেল অনুযায়ী, রুশ মহিলাদের শয্যসঙ্গী হতে চেয়েছিলেন বিল গেটস। তাঁর সেই অনুরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন এপস্টিন। এই ঘটনায় যৌনরোগে আক্রান্ত হন গেটস। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত হওয়ার পর স্ত্রী মিলিন্ডা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে চেয়েছিলেন বিল গেটস।
পাশাপাশি সেই সময় গেটস দম্পতির সাংসারিক অশান্তিতেও জড়িয়ে পড়েন এপস্টেইন। এমনকী সেই অশান্তি ডিভোর্সের পথেও এগিয়েছিল। ইমেলে আরও দাবি করা হয়েছে, এপস্টিনের কাছে নাকি গেটস অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর পুরুষাঙ্গের বর্ণনা দেওয়া ইমেলগুলি এপস্টেইন যেন মুছে দেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে গেটসের মুখপাত্রের দাবি, এই সমস্ত দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। গেটসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে না-পারায় হতাশা থেকে এই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন এপস্টেইন ।
অবশ্য গেটসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রথম নয়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, ২০১৭ সালে গেটসকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। গেটসের সঙ্গে রাশিয়ার ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভারে অবৈধ সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছিল এপস্টেইন । উল্লেখ্য, এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জেলে আত্মঘাতী হন ২০১৯ সালে। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তথা সঙ্গিনী ম্যাক্সওয়েল এখনও জেলে। শিশু পাচার এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধের মামলায় তিনিও দোষী সাব্যস্ত।
