পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক সংঘবদ্ধ হয়ে ইতিমধ্যেই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। তারই পালটা এবার ‘ষড়ভূজ’ জোট গঠনের ডাক দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাতে ‘বন্ধু’ ভারতকে পাশে চান তিনি। বুধবার ইজরায়েলের এই ঘোষণার পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। ইজরায়েলের ‘ষড়ভূজ’কে ‘মুসলিম বিশ্ব- বিরোধী’ জোট বলে আখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সংসদে পাশ হয়েছে নিন্দা প্রস্তাব।
ইজরায়েলের নীতি এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বুধবার সকল রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) আইনপ্রণেতা পালওয়াশা মহম্মদ জাই খান এই নিন্দা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল পিপিপি।
এই নিন্দাপ্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ‘ষড়ভূজ’ গঠনের আহ্বানের বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। প্রস্তাবে বলা হয়, 'ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের অশালীন মানসিকতা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও অখণ্ডতা দুর্বল করার প্রবণতাকে তুলে ধরে।'
‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিন্দা প্রস্তাবটিতে প্যালেস্তাইনের পবিত্র স্থানগুলি-সহ এই অঞ্চলের আইনি বা ঐতিহাসিক মর্যাদা পরিবর্তনের যে কোনও প্রচেষ্টার সমালোচনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটিতে লেখা হয়েছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনি লঙ্খনকারী এমন বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ করে পাকিস্তান।’
এই নিন্দাপ্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ‘ষড়ভূজ’ গঠনের আহ্বানের বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। প্রস্তাবে বলা হয়, 'ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের অশালীন মানসিকতা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও অখণ্ডতা দুর্বল করার প্রবণতাকে তুলে ধরে।' অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক ও আদর্শগত ভিত্তিতে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের মন্তব্য শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে তা-ই নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ক্ষুণ্ণ করার কৌশলেরও অংশ।
নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন মোদির। ছবি: সংগৃহীত।
প্রসঙ্গত, বুধবার ‘ষড়ভূজ’ জোটের ডাক দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হল পশ্চিম এশিয়া এবং তার আশপাশের গড়ে ওঠা চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে জবাব দেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক সংঘবদ্ধ হয়ে যে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, তার পালটা দিতেই নেতানিয়াহু এই ‘ষড়ভূজ’ জোটের ডাক দিয়েছেন। এই জোটে ‘বন্ধু’ ভারতকে পাশে পেতে চাইছেন নেতানিয়াহু। তবে ভারত ছাড়াও এই জোটে গ্রিস এবং সাইপ্রাসকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছেন তিনি।
কিন্তু বড় প্রশ্ন হল, ভারত কি এই জোটে যোগ দেবে? কারণ, নয়াদিল্লি যদি এই ‘ষড়ভূজ’-এ পা রাখে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হবে পশ্চিম এশিয়া। সূত্রের খবর, ‘ষড়ভূজ’ জোটে আরব, আফ্রিকা এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশকেও টানতে মরিয়া ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে শুধু পশ্চিম এশিয়া বা তার আশপাশে নয়। গোটা বিশ্বের চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে ‘রক্তচক্ষু’ দেখাতে প্রস্তুত নেতানিয়াহু। তাই যে ভাবেই হোক নেতানিয়াহু এই জোট বাস্তবায়িত করতে বদ্ধপরিকর।
