ইজরায়েল সংসদে দাঁড়িয়ে প্রথমবার বক্তৃতা দিলেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাস গড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, গাজায় শান্তি ফেরাতে চায় ভারত। সেই সঙ্গে নাম না করে পাকিস্তানকে বিঁধে মোদির ঘোষণা, জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য কোনও অজুহাত দেওয়া যায় না। গাজার প্রতি ইজরায়েলের রণংদেহি মানসিকতাকে কিছুটা তিরস্কারের ভঙ্গিতে মোদি বলেন, আলোচনার মাধ্যমই শান্তি আনা সম্ভব।
তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি মোদির প্রথম ইজরায়েল সফর। অনেকের মত, মোদির এই সফর আদতে ভারসাম্যের সফর। পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লির সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে, তা এই সফর থেকেই নির্ধারিত হবে। ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেটে বক্তৃতার শুরুতেই মোদি বলেন, ভারত এবং ইজরায়েলের সম্পর্ক লেখা রয়েছে রক্ত দিয়ে। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার সঙ্গে ২৬/১১ মুম্বই হামলাকে একসুতোয় মিলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার যন্ত্রণা খুব ভালোভাবেই জানে ভারত।
হামাস হামলার নিন্দা করলেও গাজায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন মোদি। গাজায় শান্তি ফেরানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসের বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসাবে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছে ভারত।
জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনেই নাম না করে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করেন মোদি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিরীহ মানুষকে হত্যা করে যে সন্ত্রাসবাদ, সেটার পক্ষে কোনওভাবেই যুক্তি খাড়া করা সম্ভব নয়। এই জঘন্য সন্ত্রাসবাদকে রুখতে গোটা বিশ্বকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। কারণ জঙ্গিরা বিশ্বের যেকোনও দেশেই থাবা বসাতে পারে। মোদির বক্তব্যে কোনও দেশের নাম না থাকলেও এই ইঙ্গিত পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেই, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হামাস হামলার নিন্দা করলেও গাজায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন মোদি। কেনেসেটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "শান্তি আনার পথটা সহজ নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর জন্য ভারত আগ্রহী। গোটা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।" উল্লেখ্য, গাজায় শান্তি ফেরানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসের বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসাবে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে, কেনেসেটে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার সময়ে ভারতীয় অর্থনীতির উন্নতির কথা উঠে এসেছে মোদির মুখে। এদিন তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার পর বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয় মোদিকে। কেনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান অর্থাৎ 'স্পিকার অফ দ্য কেনেসেট মেডেল' দেওয়া হয় তাঁকে।
