ইরান যুদ্ধে নেমে হরমুজ (Hormuz Blockade) কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত আমেরিকা। এই অবস্থায় মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প পালটা হরমুজ অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠল ব্রিটেন। স্পষ্ট ভাষায় ব্রিটেনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দর অবরোধের যে উদ্যোগ আমেরিকা নিয়েছে তাতে অংশ নেবে না ব্রিটেন। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, "এ যুদ্ধ আমাদের নয়।"
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, "হরমুজে কোনওরকম অবরোধকে একেবারেই সমর্থন করছি না আমরা। আমার মতে, এই প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সেই দিকেই ছিল, এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।" এরপরই তিনি বলেন, "ব্রিটেন নৌবাহিনীর জাহাজ ও সেনা ইরানের বন্দর অবরোধে ব্যবহৃত হবে না। তবে ওই অঞ্চলে ব্রিটেনের মাইন বিরোধী ও ড্রোনবিরোধী কার্যকলাপ অব্যাহত থাকবে।"
স্টারমার বলেন, 'হরমুজে কোনওরকম অবরোধকে একেবারেই সমর্থন করছি না আমরা। আমার মতে, এই প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।'
একইসঙ্গে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, "এই যুদ্ধ আমাদের নয় তারপরও যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের উপর চাপ রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ও সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা না থাকলে আমরা যুদ্ধে পা বাড়াব না। আমাদের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্পষ্ট, চাপ আমাদের উপর ছিলই। তবে যতই চাপ আসুক না কেন পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া এই যুদ্ধে জড়াব না আমরা।" পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, "হরমুজ খোলা রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতি-সহ ব্রিটেনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।"
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পাকিস্তানে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা-ইরানের শান্তি বৈঠক। বিশ্লেষকদের মতে, এরপরই একে অপরের অর্থনীতিতে আঘাত হানতে উঠেপড়ে লেগেছে দুই দেশ। প্রায় দু’মাস ধরে হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) বন্ধ করে রেখেছিল ইরান। তার জেরে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়ে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে লেবাননে হামলায় তাতে ফের তালা পড়েছে। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজে জাহাজ ঢোকা-বেরনো তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন। ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকে আটকে দেওয়া হবে। যারা ইরানকে টোল দিচ্ছে তাদের জাহাজে চলবে তল্লাশি। তবে আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল ব্রিটেন।
