আগে ঠিক ছিল, ১৯ জুন অর্থাৎ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তি। কিন্তু তার আগে, বৃহস্পতিবারই চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। স্বস্তির হাওয়া পশ্চিম এশিয়ায়। কিন্তু সেই সঙ্গেই রয়ে গিয়েছে আশঙ্কাও। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উদ্দেশে যে বার্তা দিয়েছেন, তাকে ঘিরে সেই আশঙ্কার মেঘ আরও কালো হচ্ছে। এমনও মনে করা হচ্ছে, লেবানন-কাঁটার ধাক্কায় শেষপর্যন্ত বিগড়ে যেতে পারে শান্তির বাতাবরণ!
উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, যেন লেবানন ইস্যুতে আরও বেশি দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলের বোমা বর্ষণ চলছেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এহেন পরিস্থিতিতে শেষপর্যন্ত কি চুক্তি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে?
আর এই অবস্থায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশই তিক্ত হয়ে চলেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প নাকি ফোন করে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ঘরবাড়ি ওড়ানো বন্ধ করুক তাঁর সেনা। কেবল তাই নয়, সাম্প্রতিক যত কথাবার্তা হয়েছে, তার অধিকাংশই এমন তিক্ত কথোপকথন। এমনকী নেতানিয়াহু সম্পর্কে একরকম বিরক্ত হয়েই ঘনিষ্ঠ মহলে ট্রাম্প আক্ষেপ করেছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই চান সর্বত্র বোমা ফেলতে। সব মিলিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্ক যে তলানিতে পৌঁছেছে তা প্রকাশ্যেই চলে এসেছে।
ট্রাম্পের মতে, যদি ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকে তাহলে ইজরায়েল ঘণ্টা দুয়েকও টিকতে পারবে না। সব মিলিয়ে লেবানন-কাঁটা সরাতে না পারলে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না, সেটা ভালোই বুঝছেন ট্রাম্প। এহেন পরিস্থিতিতে তাই নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর বিরক্তি বাড়ছে। কিন্তু ইজরায়েল কি সরবে লেবানন থেকে? আপাতত সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।
