সিন্ধ ও গুজরাট সীমান্তে অবস্থিত 'স্যার ক্রিক'-এ সামরিক তৎপরতা বাড়াতে শুরু করেছে পাকিস্তান। চিনা মদতে কাদা মাটির এই অঞ্চলে 'প্রজেক্ট আবাবিল — দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক' শুরু করেছে ইসলামাবাদ। যার ভিত্তিতে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সেনা ও সমরাস্ত্র। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি।
গুজরাট সীমান্তে অবস্থিত 'স্যর ক্রিক'-এ দীর্ঘদিন ধরেই কুনজর রয়েছে পাকিস্তানের। যার জেরে গত বছর ইসলামাবাদকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ভারত। সুর চড়িয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, স্যর ক্রিকে কোনও রকম সামরিক সক্রিয়তা বাড়ালে মারাত্মক পরিণামের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকে। তিনি আরও বলেন, "ভারত এমন জবাব দেবে, পাকিস্তানের ইতিহাস ভূগোল বদলে যাবে।'' তবে রিপোর্ট বলছে, ভারতের সেই বার্তাকে অগ্রাহ্য করে স্যর ক্রিক অঞ্চলে নেভাল স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) কম্যান্ডোদের মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। জল, স্থল এবং আকাশপথে হাই-রিস্ক মিশনের জন্য এই কম্যান্ডোদের তৈরি করা হয়।
ভারতের বার্তাকে অগ্রাহ্য করে স্যর ক্রিক অঞ্চলে নেভাল স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) কম্যান্ডোদের মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। জল, স্থল এবং আকাশপথে হাই-রিস্ক মিশনের জন্য এই কম্যান্ডোদের তৈরি করা হয়।
শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে তুরস্কের থেকে পাওয়া ড্রোন, চিনের তৈরি হোভারক্রাফট (অগভীর কাদায় চলাচলে পারদর্শী) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যর ক্রিকের কাছে অবস্থিত 'বান্ধা ধোরা' এবং 'হারামি ধোরা' অঞ্চলে বেশ কয়েকতি নেভাল চেক পোস্টও বসানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, কার্যত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে তাদের রকেট ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় রেখে 'এয়ার ডিফেন্স'ও বসিয়েছে পাকিস্তান। জানা যাচ্ছে, ইসলামাবাদের এই তৎপরতায় প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে চিনের। সূত্রের খবর, কোস্টাল ডিফেন্স বোট, মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট, হোভারক্রাফ্ট, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং হাই-স্পিড প্যাট্রল বোট নিয়ে আসা হয়েছে স্যর ক্রিকে। এই ঘটনায় স্পষ্ট যে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।
দাবি করা হচ্ছে, স্যর ক্রিকে পাকিস্তানের এই সামরিক আগ্রাসনের নেতৃত্বে রয়েছেন আসিম মুনির। বড়সড় কিছু ঘটানোর পরিকল্পনায় চিনের থেকে 'হ্যাঙ্গর ক্লাস সাবমেরিন', তুঘরিল ক্লাস যুদ্ধজাহাজ কিনেছে পাকিস্তান। যা আরব সাগরে স্যর ক্রিকের কাছাকাছি অঞ্চলে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় ওয়াকিবহাল মহলের মত, আসলে অপারেশন সিঁদুরে মার খাওয়ার পর প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছে পাকিস্তান। একক শক্তিতে তারা যে ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না তা বুঝতে পেরে মুসলিম ন্যাটো তৈরি করেছে তারা। মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ মুসলিম দেশের সঙ্গে জোট বাঁধার পর পাকিস্তান মনে করছে ভারতের উপর হামলা চালালে এই মুসলি ন্যাটোর সঙ্গ পাবে তারা। সেই বলে বলিয়ান হয়েই ভারতের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হয়েছে পাক। ভারত অবশ্য আপাতত পাকিস্তানের এই বাড়বাড়ন্তের উপর কড়া নজর রাখছে।
